রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ম্যাজিক অ্যাপ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৫০

আমরা যখন অনেক নেতিবাচক কথা শুনি অন্যদের থেকে, তখন হয়তো আমরা সকলেই চাই যে, কেমন হতো যদি আমাদের চারপাশের সকল মানুষ বিনয়ী হতো এবং ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করত। তাহলে পৃথিবীটা কত সুন্দর হতো। আমরা জানি, এই নেতিবাচক কথা ও আচরণের কতটা ভয়াবহ প্রভাব রয়েছে। এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনে উচ্ছ্বাস, উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সুন্দর মনোভাবগুলো কমিয়ে দেয় এবং অনেকটা নষ্ট করে ফেলে।

আমরা প্রত্যেকেই আমাদের শৈশব কিংবা কৈশোরে এমন অনেক বিষয়ের মুখোমুখি হই—যা আমাদের কাছের মানুষ বা পরিবারের লোকজনই আমাদের সাথে করে। যা আমরা কখনো চাইনি।

আমি মাহমুদকে দেখেছি, সে খুব অন্তর্মুখী।  একা থাকতে পছন্দ করে। সে চাইলেও তার মনের ভাব সব জায়গায় প্রকাশ করতে পারে না। নিজের একান্ত কাছের মানুষ না পেলে সে কারো সাথে ভালোভাবে মিশতে পারে না। এর জন্যও মাহমুদকে অনেক নেতিবাচক কথা শুনতে হয় অন্যদের থেকে।

মাহমুদের প্রতিক্রিয়া :সবাইকে তো বহির্মুখী হতে হবে না। যেমনটি আমি অন্তর্মুখী। আমি আমার নিজেকে নিয়ে অনেক খুশি, কিন্তু মানুষ যখন এ নিয়ে নেতিবাচক কথা বলে তখন অনেক সুন্দর বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। মন খারাপ হয়ে যায়।

রাফিকে দেখেছি, সে গণিতে খুব ভালো নম্বর পেয়ে পাস করেছে। তারপরও তার পরিবার থেকে তাকে বলেছিল, কেন তোমার পজিশন ক্লাসের ১ থেকে ১০-এর মধ্যে নেই?

রাফির প্রতিক্রিয়া :রাফি মন খারাপ করে রুমে বসে থাকে, চিন্তা করতে থাকে—সব অঙ্ক তো কমন ছিল না। চেষ্টা করেছি ভালো করতে। আমার জানা ছিল না—এর থেকে আরো কীভাবে ভালো করা যায়। যতটুকু করেছি আমার সেরাটা দিয়ে করেছি। তারপরও খুশি নয় বাবা-মা।

রাকিব গ্লাসে পানি ঢালার সময় কিছু পানি টেবিলে পড়ে যায়। তখন পরিবারের সবাই তাকে অনেক কিছু শুনিয়েছে— এত বড় হয়েছ, এখনো ঠিকভাবে পানি ঢালতে পার না গ্লাসে।

রাকিবের প্রতিক্রিয়া। আমার হাত থেকে সামান্য একটু পানি না হয় পড়ে গিয়েছিল টেবিলে। এজন্য কত কথা শুনিয়ে দিল। আমি তো ইচ্ছে করে করিনি।

সিয়াম ক্লাসে খুব সুন্দর একটা কবিতা আবৃত্তি করেছিল।  ক্লাসের সকলে তাকে আবৃত্তির জন্য প্রশংসা করে। কিন্তু সেটি বাসায় এসে বলার পরও বাসার কেউ তাকে গুরুত্ব দেয়নি। কেউ একটু পাত্তাও দেয়নি।

সিয়ামের প্রতিক্রিয়া: তাহলে তো আমার স্কুলই ভালো, সেখানে সবাই আমার কবিতা মনোযোগ দিয়ে শুনল, মূল্যায়ন করল। কিন্তু আমার বাসায় কেউ গুরুত্বই দিল না।

রিয়াদ মাঝে মধ্যে একটু তুতলিয়ে কথা বলে। কয়েকটি শব্দ তার আটকে যায়। সবসময় নয়, যখন সে নিজের মধ্যে চাপ অনুভব করে, তখন। এর জন্য তার আত্মীয়স্বজন তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে।

রিয়াদের প্রতিক্রিয়া: আমি তুতলাই। হতে পারে এটা আমার একটা দুর্বলতা। কিন্তু এটা তো হাসার কোনো বিষয় না। এতে আমার নিজের কোনো দোষ নেই। তারপরও ওরা কেন এমন করে?

কেমন হতো যদি আমাদের কাছে একটা শক্তিশালী গ্যাজেট অথবা অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম থাকত ব্যবহার করার মতো। যেটি ইনস্টল করা হলে সবাই সুরক্ষিত থাকবে এসব মানুষদের থেকে।

যে মানুষগুলো নেতিবাচকতা ছড়ায় তাদের মধ্যে এই অ্যাপটি ইনস্টল করে দিতে হবে। তাহলে একটা সময় দেখা যাবে, এর প্রভাবে সেই মানুষগুলো আর নেতিবাচক আচরণ প্রকাশ করতে পারছে না। এর মাধ্যমে হয়তো আমাদের চারপাশে ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে সুন্দর একটা পরিবেশ পাব। সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনা করতে পারব। এই অ্যাপ আমাদের মধ্যে আনন্দ সৃষ্টি করবে। আমরা যদি আনন্দে থাকি, হাসিখুশি থাকি তাহলে আমরা পড়াশোনায় মন দিতে পারব। খেলাধুলায় মন দিতে পারব। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার বাইরে যে আলাদা জগৎ আছে সেখানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে পারব। এর ফলে আমাদের পৃথিবী হবে আরো সুন্দর।

আমরা অপেক্ষা করব এই ম্যাজিক অ্যাপের জন্য। কিন্তু কারা আমাদের বানিয়ে দেবে? যদি ভিনগ্রহের কেউ এসে আমাদের এই ব্যাপারে সাহায্য করে তাহলে আমরা খুব দ্রুত সমাধান পেতাম। হয়তো কোনো একদিন হতেও পারে।

 

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন