বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ফলাফল খারাপ মানেই সব শেষ নয়

শিক্ষাঙ্গনে প্রতিযোগিতার চাপ, ভুক্তভোগী অভিভাবকরাও

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ১৪:২২

শিক্ষাঙ্গনে অলিখিত প্রতিযোগিতার চাপ শিক্ষার্থীরা সবসময় টের পায়। এই প্রতিযোগিতায় প্রায়ই অংশ নেন অভিভাবকরাও। অগ্নিপরীক্ষার মুহূর্ত আর মানসিক উত্তাপের ক্ষণ আসে ফলাফলের দিন। সকাল থেকেই দুরু দুরু বুকে জেগে ওঠা। প্রতীক্ষা ভালো কিছুর। কিন্তু মনের মতো ফলাফল না পেলেই মানসিক পীড়া বাড়ে। শুধু শিক্ষার্থীরই নয়, এই মানসিক যন্ত্রণা বাড়ে অভিভাবকদেরও। 

সন্তানের ফল মনমতো না হলে মা-বাবারা মন খারাপ করেই থাকেন। তবে মন খারাপের প্রতিক্রিয়া যদি গঠনমূলক না হয়, তবে সন্তানের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও খারাপ রেজাল্ট করার আশঙ্কা বেড়ে যায়। পরীক্ষার ফল নিয়ে মা–বাবারা একটা প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি তাদের সামাজিক ভাবমূর্তি এমনকি সমাজে নিজের আলাদা প্রতিপত্তি গড়ার উপলক্ষ হওয়া থেকে বঞ্চিত করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, তৌহিদুল হক জানান, 'অভিভাবকদের মধ্যে সবসময় এমন একটি ধারনা এই সময় কাজ করে যে তার সন্তানের ঘাটতির কারণেই ফলাফল খারাপ হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি, খাতায় উপস্থাপনা এমনকি পরীক্ষকের মান ইত্যাদি বিষয় ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রস্তুতি ভালো না থাকায় প্রত্যাশিত ফল হয় না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও পরীক্ষার দিন যথাযথভাবে পরীক্ষা দিতে না পারা এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য কারণে ফল আশানুরূপ না-ও হতে পারে। পরীক্ষার ফল প্রত্যাশিত না হলে পরীক্ষার্থীর বাবা-মা নানা প্রতিক্রিয়া দেখান। অনেক সময় এই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত যুক্ত হয় আত্নীয়-স্বজন বা অন্যদের প্রতিক্রিয়া।' 

শিক্ষাঙ্গনে এখন প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে যে সফলতার মতো ব্যর্থতাও জীবনের একটি অনুষঙ্গ। ফলে ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মতো তৈরি করতে হবে সন্তানকে। জীবনে সফলতার অর্থ কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বরং সামাজিক দক্ষতা অর্জন করে সামাজিকভাবে নিজেকে প্রকাশ করা হাজার গুণ জরুরি। তাই সন্তানের পরীক্ষার ফল প্রত্যাশিত না হলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সন্তানের সঙ্গে বিরূপ আচরণ না করে প্রাপ্ত ফলাফলের অর্জন সম্পর্কে উৎসাহিত করুন, যাতে সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে পারে।

সামনে আরও জটিল লড়াইয়ে নামতে হবে। সেই লড়াইয়ে নামার উৎসাহ দেওয়ার প্রস্তুতিই এখন দিতে হবে। তারজন্য অভিভাবক হিসেবে যা করতে পারেন:

  • সন্তানের ফলাফল আপনার মনমতো না হলেও তাকে উৎসাহ দিয়ে যান। ফলাফল যেমনই হোক না কেন তাকে ফলাফল উপলক্ষে ছোটখাটো উপহার দিন বা পছন্দের খাবার খেতে দিন।
  • অন্য কারো সঙ্গে তুলনা না করাই ভালো। সন্তানের ফলাফল যেমনই হোক, অন্যের সঙ্গে তুলনা করে এই সময় বাড়তি চাপ দেবেন না।
  • অনেক সময় মানসিক রোগ, সেলফোন বা ইন্টারনেট আসক্তি এবং মাদকাসক্তির কারণে সন্তানের পরীক্ষার ফল আশানুরূপ নাও হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কেউই কনসাল্টেশনের সাহায্য নেন না। দেরি না করেই কনসাল্টেশনের আওতায় চলে আসুন সন্তানকে নিয়ে।
  • ফলাফল খারাপ হয়েছে। সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষককে বকাবকি করলে হবে না। এভাবে বরং আরো বাজে পরিস্থিতি তৈরি হয়।
  • ফলাফল যেমনই হোক অবসর যাপনের সুযোগ বা ক্ষেত্র বন্ধ করবেন না। কদিন পর তাকে ব্যস্ত হতেই হবে। আপাতত মনের এই খারাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখুক।
  • প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় সে-ও ভেঙে পড়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। তার পাশে বন্ধুর মতো থাকুন।
  • শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, মা-বাবার মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ, স্কুলের সহপাঠী বা শিক্ষক দ্বারা উত্ত্যক্ত হওয়া, কারও সঙ্গে আবেগের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয় আছে কি না, খুঁজে দেখুন।
ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন