বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ভূমিকম্পে আতঙ্ক নয়, বাড়ুক সচেতনতা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ২২:১৭

বাংলাদেশে ভূমিকম্প বেড়েই চলেছে। মাঝে মধ্যেই ছোট কিংবা মাঝারি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে দেশ। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।এর আগে গত আগস্ট মাসে ২বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পে ঝুঁকি থাকলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি কম। পুরনো ভুবন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ না করা ভূমিকম্পের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন ভূমিকম্পের সম্ভাব্য দুটি উৎসই ঢাকার দেড়শ কিলোমিটারের মধ্যে এবং এ ছাড়া ঢাকার পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় ভূমিকম্পের ইতিহাসও আছে।

পৃথিবীপৃষ্ঠের অংশ-বিশেষের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন বা আন্দোলনই ভূমিকম্প। হঠাৎ যদি ঘরের কোনো জিনিস দুলতে শুরু করে—যেমন, দেয়ালঘড়ি, টাঙানো ছবি বা খাটসহ অন্য যেকোনো আসবাব—বুঝতে হবে ভূমিকম্প হচ্ছে।

ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব সাধারণত কয়েক সেকেন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হয়ে যেতে পারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। ভূমিকম্পের মাত্রা অনুযায়ী ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তার নাম রিখটার স্কেল। রিখটার স্কেলে এককের সীমা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত। এই স্কেলে মাত্রা ৫-এর বেশি হওয়া মানেই ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা।

ভূমিকম্পের সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া খুব জরুরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ভূমিকম্পের সময় করণীয় নিয়ে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এটি দেওয়া আছে।

  • ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত হবেন না।
  • রান্নাঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসুন।
  • বিম, কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিন।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল-ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
  • একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
  • ওপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে; তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট ব্যবহার করে নামা থেকে বিরত থাকুন।
  • একবার ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যাকে ‘আফটার শক’ বলে। নিজেকে বিপদমুক্ত ভাবতে অন্তত একঘণ্টা সময় নিন।  
  • গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামান। ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভিতের থাকুন।
  • ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে রাখুন।
  • ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে এলোপাথাড়ি ছোটাছুটি না করে উপরোক্ত কিছু নিয়ম মেনে চললেই বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এছাড়াও ভূমিকম্প হলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে জরুরি খবর পাঠানোর ব্যবস্থা করা, ভূমিকম্প বিষয়ক গেমের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতা তৈরি করার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

ইত্তেফাক/এফকেবি/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন