শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পার্বত্য শান্তিচুক্তি দিবস পালিত

পাহাড়ি-বাঙালি উৎসব

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৩০

পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে গতকাল শনিবার ছিল পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে এক উৎসবের আমেজ। দিনব্যাপী র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সেনাবাহিনী কর্তৃক দরিদ্র-দুস্থ ও বৃদ্ধ রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিটি জেলা-উপজেলার পাড়া-মহল্লায় উৎসবের আমেজ লক্ষণীয়। সকল বয়সের নারী-পুরুষরা নানা রঙের পোশাক পড়ে, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বাংলাদেশ সম্মিলিত ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে রেলি বের করে। পাহাড়ি-বাঙালি ভাই ভাই, আমাদের কোন বিরোধ নেই। শান্তিবিরোধী চাঁদাবাজ খুনিদের ঠাঁই নেই। এই স্লোগানে মুখরিত ছিল পার্বত্য অঞ্চলের সর্বত্র।

পাহাড়ি-বাঙালিদের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি-বাঙালিদের মুখে শুধু একটাই উচ্চারণ, আমরা শান্তিতে আছি। আমাদের সন্তানরা ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করে সুশিক্ষিত হচ্ছে। পরবর্তীতে অনেকে্ই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদস্থ পদেও চাকরিতে যোগদান করছে। অনেকে সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। শান্তি চুক্তি না হলে আমাদের সন্তানরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকতো। থাকতে হতো অন্ধকার যুগে। যাযাবরের মতো জীবন-যাপন করতে হতো। ৬১টি জেলার মতো পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়নের মহাসড়কে পদার্পণ করায় যোগাযোগ থেকে শুরু করে সকল সুযোগ-সুবিধা আমরা পাহাড়ি-বাঙালিরা পাচ্ছি। উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ এমন কোন কিছু নেই, যা আমাদের হাতের কাছে নেই। সবই সম্ভব হয়েছে শান্তি চুক্তি বদৌলতে। যাদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশুনা করে এবং তাদের সেখানে বাড়ি-গাড়িসহ বিলাসি জীবন-যাপন তারই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন মেনে নিতে পারে না। তারা চাঁদাবাজি, খুন, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপকর্ম করে যাচ্ছে। চাঁদাবাজির টাকা তারা বিদেশে পাচার করছে, অস্ত্র কিনছে। সেই অস্ত্র যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের হাতে। সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেখানে নিরাপত্তাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসাধারণ উন্নয়ন হওয়ায় এই সকল সন্ত্রাসীদের পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উন্নয়নের ঢেউয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও খুনিরা তলিয়ে যাবে, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৬ বছর পূর্তিতে রাঙ্গামাটি রিজিয়নের পক্ষ থেকে শহরে বর্ণাঢ্য শান্তি রেলি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি কল্যাণপুর এলাকায় শান্তির পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে রেলির উদ্বোধন করেন, রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এমপি। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার ও রাঙ্গামাটি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এরশাদ হোসেন চৌধুরী পিএসসি ও রাঙ্গামাটি পৌর মেয়র মোঃ আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ আহমেদসহ সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৬ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন আহম্মেদ। পরে শহরে সম্প্রীতির মঙ্গল শোভাযাত্রা ব্যানারে বর্ণাঢ্য রেলী অনুষ্টিত হয়। র্যালিতে পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনা রিজিয়ন, জেলা প্রশাসন, বাঙ্গালী ও  ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর হাজারো নারী পুরুষ অংশ নেয়।সকাল দশটায় স্থানীয় রাজার মাঠে আলোচনা সভা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মোহতাসিন হায়দার চৌধুরী। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন , নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুই প্রু চৌধুরী অপু ও জেলা পরিষদের নির্বাহী  কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।এখানে এক মনোরম সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান   অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে  সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও  শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম