শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের ধুম পড়ে যায় চারপাশে। শীতকালকে অনেকে বিয়ের মৌসুমও বলে থাকেন। আর বিয়ে মানেই বাহারি সাজ-পোশাকের বর্ণিল আয়োজন। বর-কনের পাশাপাশি দুই পরিবারের সদস্যরাও এ সময় ব্যস্ত থাকেন কেনাকাটায়। শখের কনের জন্য একটু ভিন্ন আর রুচিশীল সাজ-পোশাকের কোনো বিকল্প নেই। অনেকে পোশাকে ভিন্নতা আনতে ছোটেন বিদেশে। কিন্তু দেশেই বর-কনের জন্য রুচিশীল, জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকের পসরা নিয়ে প্রতিবছর আয়োজিত হয় ‘বাংলাদেশ ওয়েডিং কুটর উইক’। এবারও ঢাকার হোটেল লা মেরিডিয়ানে জমকালো আয়োজনে ২৪ নভেম্বর প্রদর্শিত হলো ‘বাংলাদেশ ওয়েডিং কুটর উইক-২০২৩’।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে বিয়ের পোশাকের ধরন আর বর্ণের। চিরায়িত লাল বেনারসি আর অফ-হোয়াইট বা বেইজ শেরওয়ানি থেকে বের হয়ে এখন নিত্যনতুন রঙ আর নকশার পোশাক নিয়ে আসছেন ডিজাইনাররা। দেশের বাজারে ভারতীয় পোশাকের আগমনের ফলে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজাইনাররাও এখন সৃজনশীলতায় নতুন করে ভিন্নভাবে সাজাচ্ছেন বর-কনেকে। দেশের ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে আরো বেশি সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশ ওয়েডিং কুটর উইক ২০২৩ আবারও এই পরিবর্তনকে ফুটিয়ে তুলেছে নান্দনিকতার ছোঁয়ায়। নতুন আর বাহারি নকশার পোশাকে মাতিয়েছে দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। গত বছরের অসাধারণ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে এবারও। প্রতিবছর যেন বিয়ের মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে কুটর ওয়েডিং উইক। ঐতিহ্যবাহী ও সমসাময়িক ডিজাইনের সংমিশ্রণের কারণে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
যুরহেমের মেহরুজ মুনীর, সারাহ করিম ও সাহার রহমানের মতো ডিজাইনাররা ঢাকার অভিজাতদের বিমোহিত করে রেখেছেন নান্দনিকতা দিয়ে। এবারের আসরে শুধু দেশীয় ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনই ছিল না সঙ্গে ছিল বিশ্বমানের নানাবিধ ডিজাইনের সংমিশ্রণ। শাড়ি, লেহেঙ্গা, শেরওয়ানি ও টাক্সেডোতে শৈল্পিক হাতের কাজ, সূচিকর্ম ও জারদোজির মতো দক্ষতা প্রদর্শন করা হয়েছে।
নববধূদের জন্য সারাহ করিম ও সাহার রহমান মনোমুগ্ধকর পোশাক প্রদর্শন করেছেন যা ভাবী কনেদের মন কেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাকের রঙের পাশাপাশি প্যাস্টেল ও হালকা রঙগুলো প্রদর্শনীতে প্রাধান্য পেয়েছে। লেহেঙ্গা ও শাড়িতে পাথর ও কাচের কাজ মুঠোফোনের আলোর ঝলকানিতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সারাহ করিমের পোশাকে জাঁকজমক ও কমনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সারাহ করিমের তৈরি জারদোজি, কারচুপি আর ভেলভেটের ‘র’ সিল্কের ওপর সম্পূর্ণ হাতের কাজের তৈরি লেহেঙ্গা আর কালো ব্লাউজের অসাধারণ সংমিশ্রণে এবারের আসর মাতিয়েছেন শো স্টপার বিদ্যা সিনহা মিম। এবারের আয়োজনের চুম্বক আকর্ষণ ছিল এই লেহেঙ্গা।সারাহ করিম বলেন, ‘হলুদের কাপড়ে হালকা ব্রাইট কালার, ফ্লোরাল ডিজাইন, অনেক রঙের সমন্বয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবারের আয়োজনে। কাজ করা হয়েছে বাংলাদেশি জামদানির ওপর।’
সাহার রহমান ও তার বোন মঞ্চে প্রদর্শন করেছেন গাঢ় লাল থেকে গভীর বেগুনি, সবুজ, পীচ ও আরো অনেক প্রাণবন্ত রঙের নান্দনিক নকশার পোশাক। তাদের ডিজাইন করা পোশাকে মডেল ও অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে অভিজাত, সুন্দরী রাজকন্যার মতো দেখাচ্ছিল। বরের জন্য নিবির আদনান নাহিদ রাজকীয় নীল ব্লেজারে একটি আকর্ষণীয় কালো কেপ যুক্ত, আবেদনময় কাউন্ট ড্রাকুলার থিম নিয়ে হাজির হয়েছেন। প্রদর্শনীতে স্যুট, শেরওয়ানি ও কোটের বাহারি প্রদর্শনী ছিল। পোশাকের ডিজাইনগুলো নানা রঙের ঝলকানিতে দর্শকদের বিমোহিত করে রেখেছে। বরের জন্য গোলাপি বা সোনালি ফ্রিলস দিয়ে সজ্জিত শেরওয়ানি অনেক ফ্যাশন উত্সাহীদের কল্পনার বাইরে নিয়ে গেছে। মুক্তা বসানো অল-হোয়াইট বেসপোক টাক্সেডোতে নজর কেড়েছেন অভিনেতা সিয়াম আহমেদ।
দেশের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও এখন সারা করিম কুটরে কনের পোশাকের অর্ডার আসছে। ভারতের কলকাতা থেকেও এখন অর্ডার আসা শুরু হয়েছে বলে জানান সারাহ করিম। আয়োজন নিয়ে সারাহ করিম বলেন, ‘এবার ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও আমাদের প্রদর্শনীর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দেশের চলমান পরিস্থিতির মধ্যে আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে প্রদর্শনী করার ঝুঁকি নিইনি। সামনে নিয়মিত ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রদর্শনী করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’
‘ওয়েডিং কুটর উইক ২০২৩’ এই বার্তাই নিয়ে এসেছে যে সৃজনশীলতা ও শৈলীর কোনো নির্দিষ্ট পরিসীমা নেই। যুরহেমের চেয়ারপার্সন সাদাত চৌধুরীও ইভেন্টের সাফল্য নিশ্চিত করতে ও ফ্যাশনশিল্পে একটি নতুন মাপকাঠি স্থাপন করার ক্ষেত্রে তার অসাধারণ প্রচেষ্টার কারণে বিশেষ প্রশংসার দাবিদার।
