বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটক বাড়ছে কুয়াকাটায়

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:০০

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি মানুষ সৈকতে যেতেন। তবে হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর সাপ্তাহিক এই ছুটির দিন ছাড়া মানুষের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। অনেক ক্ষেত্রে সপ্তাহের মধ্যে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে বিরতি থাকলে সেসব দিনেও সৈকতে বেশি মানুষ দেখা যাচ্ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা অবরোধের কারণে মৌসুমের শুরুতেই সমস্যায় পড়েছেন তারা। বছরের এই সময়ে কুয়াকাটায় ভিড় করেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। কিন্তু অবরোধের কারণে সব বুকিং বাতিল করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসার পথে গণপরিবহন না পাওয়া ও রাস্তাঘাটে সংঘাত, সংঘর্ষের কথা চিন্তা করে বের হচ্ছেন না ভ্রমণপিপাসুরা। তবে গত কয়েক দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, ছুটির দিন টার্গেট করে পর্যটকদের আসা শুরু হয়েছে।  

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় হরতাল-অবরোধের মধ্যেও পর্যটকরা আসছেন। রুহুল আমিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, হরতাল ও অবরোধ দোকান পাট বন্ধ। ব্যবসা বাণিজ্যে ভাটা, তাই পরিবার পরিজন নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট থেকে এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে এবং এক কিলোমিটার পশ্চিম দিকে দলগতভাবে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে গোসল করছেন। বহু পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভান্ডার ঝাউবাগান, নারিকেল বাগান, গঙ্গামতি কাউয়ারচর, লেম্বুরচর, স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ১৮ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত জুড়ে পর্যটকদের ঘুরতে দেখা গেছে। কুয়াকাটাসংলগ্ন মিশ্রীপাড়ায় অবস্থিত বৌদ্ধ মূর্তি, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলখ্যাত ফাতরার সবুজবন, মম্বীপাড়ার সত সঙ্গের মন্দির, ঝাউবাগান, লেম্ফুর চর বনাঞ্চল, গঙ্গামতির লেকপাড় সর্বত্র পর্যটকের ভিড় রয়েছে। শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহারসহ দর্শনীয় স্পট সমূহ ঘুরে দেখছেন আগতরা। রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, মিশ্রিপাড়া তাঁতপল্লি সবখানেই কেনাকাটায় পর্যটকদের দেখা গেছে। আবার অনেকেই সৈকতে ভাজা মাছের দোকানগুলোতে কাঁকড়া, চিংড়িসহ নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই ও বারবিকিউ উপভোগ করছেন। কুয়াকাটার খাবার হোটেল মালিক রুহুল আমিন বলেন, আমার খাবার হোটেলের বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।

কুয়াকাটায় দেশের প্রতিষ্ঠিত পরিবহনগুলো তাদের সার্ভিস চালু করেছে। শুক্র ও শনিবার বাসের সিট পাওয়া একটু  কঠিন বলে জানালেন একটি কাউন্টারের প্রতিনিধি তুহিন। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে বুক দিলে টিকিট পাওয়া সহজ হয়।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার খুব অল্প সময়েই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কুয়াকাটায় চলে আসা যায়। অনেকে এই সুযোগ নিয়ে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে সুমদ্রসৈকতে চলে আসেন। কিছুটা সময় আনন্দে কাটান। তারপর নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ওসি হাসনাইন পারভেজ জানান, কুয়াকাটায় দিন দিন পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহিপুর থানা ও ট্যুরিস্ট পুলিশ  কাজ করে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার জানান, প্রতিনিয়তই কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। কুয়াকাটায় আইন শৃঙ্খলা ভালো আছে।

ইত্তেফাক/এমএএম