বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ৫৫ স্পট

পর্যটক বাড়াতে অবকাঠামো বাড়ানোর আহ্বান ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:১৩

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দৃষ্টিনন্দন পাহাড় এবং সবুজের সমারোহে প্রাণ জুড়িয়ে যায় ভ্রমণ পিপাসুদের। বান্দরবানে ৩৮টি ও খাগড়াছড়িতে ১৭টি সহ ৫৫টি পর্যটন স্পট রয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে ৪০টি পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। সাজেক, নীলগিরি আলী কদমে হাত বাড়ালেই যেন ছোঁয়া যায় মেঘ। এসব কারণেই তিন জেলায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে এই অঞ্চলটি আকর্ষণ। 

অর্থনীতিবিদ এবং স্থানীয়রা বলছেন, ভ্রমণ পিপাসুরা তিন পার্বত্য জেলার শহরে থাকতে চান না। তারা পর্যটন কেন্দ্রের আশপাশে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশপাশে হোটেল, মোটেল ও কটেজসহ অবকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা অনেক বাড়বে। তখন অর্থনীতির একটি বৃহত খাত হবে পর্যটন। এ অঞ্চলটি হতে পারে সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস। ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি সরেজমিনে পার্বত্যাঞ্চলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছেন। 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত পার্বত্য তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। পাহাড়-পর্বত, নদীনালা ও গাছপালা বেষ্টিত মনোরম দৃশ্যের এ ভূমিতে রয়েছে বাঙালি ও ১২টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমানে বান্দরবানে পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার। শহরে থ্রি-স্টার হোটেল রয়েছে। তবে অত্যাধুনিক ফাইভ স্টার হোটেল নেই। সাম্প্রতিককালের সরকার একটি ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের প্রস্তুতি নিলে শান্তি চুক্তিবিরোধী সন্ত্রাসীরা বাধা দেয়। 

পাহাড়ি-বাঙালিরা জানান, হোটেলটি নির্মিত হলে বিশ্বের সকল দেশের পর্যটকরা এই প্রাকৃতিক লীলাভূমিতে অবস্থান করতো। তারা হোটেলটি করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। ইতিপূর্বে বান্দরবনে কুকি সিং এর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে  সেখানে পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা বিশেষ করে অবরোধ কর্মসূচির কারণে এখন পর্যটক কম যাচ্ছে। বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড সীমান্তে সড়ক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে ৩১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত সমাপ্তির পথে। এটা সম্পন্ন হয়ে গেলে পার্বত্য তিন জেলায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। কারণ সীমান্ত সড়কের আশপাশের এলাকায় জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল), ইউপিডিএফ (সংস্কার) ও কুকি সিং এর সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা রয়েছে। গহিন অরণ্যে রয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই সকল সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও মাদক পাচার করে আসছে গহিন অরণ্য অঞ্চল দিয়ে। এ সকল অস্ত্র পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতার কারণে তিন পার্বত্য জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়েছে।

বান্দরবান হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ওনার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলা শহরে থ্রি-স্টার হোটেল অনেক আছে। কিন্তু পর্যটকরা শহরে থাকতে চান না। তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশপাশে থাকতে চান। এ কারণে প্রকৃতির সাথে সমন্বয়ক করে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারলে অনেক পর্যটক আসবে। তিনি বলেন, কুকি সিং এর সাম্প্রতিককালের সংঘর্ষের কারণে পর্যটক কম এসেছিল। সাম্প্রতিককালে বন্যা হয়েছে। এটা কাটিয়ে ওঠার সময় এখন। কিন্তু বর্তমানে অবরোধ কর্মসূচির কারণে পর্যটক কম আসছে।

বান্দরবানের এসপি সৈকত শাহীন বলেন, পর্যটকদের এখন বান্দরবানে আসতে কোন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। এখন এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক। পুলিশের পক্ষ থেকে যেখানে যা করার প্রয়োজন তা করা হচ্ছে।

এদিকে খাগড়াছড়িতে বর্তমানে প্রচুর পর্যটক আসছে। সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার মধ্যে পড়েছে। তবে সাজেকে যাতায়াতের জন্য সহজ ও নিকটবর্তী হলো খাগড়াছড়ি। এখানকার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী। যার কারণে ওই এলাকায় কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। সাজেকের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দার এই এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা ও বসবাস করে আসছেন। সাজেকে সেনাবাহিনীর কটেজ ছাড়াও শত শত হোটেল, কটেজ রয়েছে। শীতকালে কুয়াশায় সাজেক পুরো ঢেকে থাকে। অপরূপ এই দৃশ্য দেখতে দেশীয় পর্যটক ছাড়াও বিদেশীদের সবচেয়ে আকর্ষণ বেশি। খাগড়াছড়ির এসপি মুক্তাধর বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে এখানে কোন সমস্যা নেই। পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারছেন। 

ইত্তেফাক/এমএএম