দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তার সম্পদ গত পাঁচ বছরে বাড়েনি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় নিজের পেশা সমাজসেবী উল্লেখ করেন তিনি। পিএইচডি ডিগ্রিধারী জয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা ছিল না।
২০১৭ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবারও দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন তিনি। এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
হলফনামায় জয়া সেনগুপ্তা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৬৯ হাজার ৭২ টাকা। পাঁচ বছর আগেও তার সমপরিমাণ আয় ছিল। জয়া এবার প্রায় ৩ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। পাঁচ বছর আগেও তার সমপরিমাণ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। এবার তিনি সোয়া ৮ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামায়ও তিনি একই টাকার স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন। স্থাবর সম্পত্তি সব স্বামীর নামে। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে জয়া সেনগুপ্তার বাৎসরিক আয় ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৭২ টাকা, অন্যান্য ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা নিজ নামে ৫ লক্ষ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৯১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৬৯.৩০ টাকা, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা, বাস, ট্রাক, মটরগাড়ি, মটরসাইকেল ৫১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ ৪০ হাজার টাকা, নির্ভরশীলদের নামে রঙিন টিভি ২০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১০ একর কৃষি জমি ৬ লক্ষ টাকা, অকৃষি জমি ৮৫ একর ২২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, দালান ৯০০ এসএফটি (দিরাই) মূল্য ৭.৫২ কোটি, ঢাকায় ও দিরাইয়ে বাড়ি/এপার্টমেন্ট ২টি ৫৪ লক্ষ ৫ হাজার ১৮৪ টাকা।
জয়া সেনগুপ্তা বলেন, হলফনামার তিনি অর্জনকালীন সময়ের মূল্য দেখিয়েছি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত থেকে যে সম্পদ পেয়েছি, তাই এখনো অটুট আছে। এর বাইরে আয়ের হিসাবে সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া তাঁর সম্মানী যুক্ত হচ্ছে। ফলে পাঁচ বছরে তার আয় এবং সম্পদ সমানই রয়ে গেছে।
