সন্তানকে বিজয়ের ইতিহাস জানান

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৪:২৩

বাঙালি জাতির ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে একাত্তরের মক্তিযুদ্ধ। যত দিন বাঙালি জাতি থাকবে, তত দিন এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পঠিত হবে অবিস্মরণীয় এক গৌরবগাথা হিসেবে।

এটি ভুলে গেলে চলবে না মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে বিশ্ব-দরবারে মাথা উঁচু করে চলার উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক যৌক্তিকতাকে তুলে ধরে এর চেতনাকে তাদের হূদয়ে ধারণ করানোর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক  ইতিহাসের চর্চা করা যেতে পারে।

আর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে  জানানোর ক্ষেত্রে তাদের পরিবার সবচেয়ে বড়  ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবার হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার প্রধান জায়গা। কারণ পরিবারের কাছ থেকেই একটি শিশু বা কিশোর প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ইতিহাসে আমাদের সন্তান কিংবা নতুন প্রজন্ম যে শুধুমাত্র দেশের জন্য ভালোবাসা আর মমতা অনুভব করবে তা নয়, এই দেশ, এই মানুষের কথা ভেবে গৌরব বোধ করবে। মুক্তিযুদ্ধ শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক অত্যাচারের কাহিনী। সেই অত্যাচার থেকে সবাইকে মুক্তি দিতেই দেশের সাহসী সন্তানেরা জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন যুদ্ধে।

নয় মাস যুদ্ধ করে, তিরিশ লক্ষ শহিদের প্রাণের বিনিময়ে আর অগণিত নারীর সম্ভ্রম ও ত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন এ বাংলাদেশ। আর সেই গৌরবময় ইতিহাস সঠিকভাবে জেনে ও চর্চার মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব। বাঙালির ইতিহাস মানেই শোষণ আর অধিকার থেকে বঞ্চনার ইতিহাস। না পাওয়ার বেদনায় বাঙালি জাতিকে চিরকালই বুকে পাথর চাপা দিতে হয়েছে।

বাঙালি জাতি জন্ম থেকেই কখনো মোগল-পাঠান, কখনো ব্রিটিশ, কখনো পাকিস্তানিদের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। কিন্তু বাঙালির মনোবল ঠুনকো নয়, তাই তো মুক্তিযোদ্ধারা জীবনকে বাজি ধরে মাতৃভূমিকে মুক্ত করে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছেন। অন্যায়ভাবে শোষণ ও শাসনের মধ্য দিয়ে বাঙালি  জাতিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যত ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল—সবই করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় তারা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকদের হত্যা করেছিল। তাই বাঙালি জাতি কীভাবে তাদের পরাজিত করেছিল, তার যথাযথ ইতিহাস নতুন প্রজন্ম, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব ও কর্তব্য আগের প্রজন্মের। সেদিক থেকে পরিবারের উচিত তাদের সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা। এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, উপন্যাস ও কবিতা পড়তে উত্সাহিত করতে হবে। লেখক-কবি, গবেষক সবাইকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে হবে বেশি বেশি—প্রকাশকদেরও দায় আছে সেগুলো বই আকারে ছাপাতে। চলচ্চিত্রকারদের উচিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসনির্ভর সিনেমা নির্মাণ করা, এতে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে যেমন উদ্বুদ্ধ হবে তেমনি বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।’

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন