সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এনআরবি গ্লোবাল বিজনেস সামিটে সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে ২৪ ডিসেম্বর রোববার পর্যন্ত দুবাইয়ের মিলেনিয়াম প্লাজা ডাউনটাউন হোটেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন দুবাইয়ের শেখ ড. জুমা মাদানিসহ অন্যান্য অতিথিরা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ সম্মেলনে যোগ দেন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই) ও জেবিবিএ’র সভাপতি এবং ইমিগ্র্যান্ট এল্ডার হোম কেয়ারের চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ, গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারের প্রেসিডেন্ট শাহনেওয়াজ, নিউইয়র্কের বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নূরুল আজিম, গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট রানো নেওয়াজ, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবু বকর হানিফ ও পিপল এন টেকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা হানিফ, খলিল ফুডসের কর্ণধার ও খ্যাতনামা শেফ খলিলুর রহমান, সিপিএ মোহাম্মদ চিশতি প্রমুখ।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত বাংলাদেশি বিশিষ্টজনেরাও এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ও খ্যাতনামা ইউটিউবার ফাতেমা নাজনীন প্রিসিলা প্রমুখ।
গ্লোবাল সামিটে বাণিজ্যিক বিষয়ে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তথ্য আদান-প্রদান, ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে যারা যোগ দিয়েছেন, তারা বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এর ফলে একে অপরের সঙ্গে আগামী দিনে ব্যবসা করার সুযোগও তৈরি করতে পারবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বিজনেস আমেরিকান ম্যাগাজিনের আয়োজনে গ্লোবাল বিজনেস সামিটে উদ্বোধনী বক্তব্যে দুবাইয়ের শেখ ড. জুমা মাদানি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বাংলাদেশি বিজনেস আইকনদের এই মহাসম্মেলন দেখে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। তিনি বাংলাদেশি বিজনেসম্যানদের দুবাইতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করারও ঘোষণা দেন।
বিজনেস সামিটের প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মুহাম্মদ আবু জাফর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল জামাল হোসেইন। দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গ্লোবাল এনআরবি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা ড. কালিপ্রদীপ চোধুরী। আরও বক্তব্য দেন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের মহাপরিচালক আবুল হায়াত নুরুজ্জামান, আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গিয়াস আহমেদ, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেইন, সিঙ্গাপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সহিদুজ্জামান, এমডিএস ইসলাম নান্নু জাপান, ব্রিটিশ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সামারসেট) সভাপতি করিম মিয়া শামিম, অ্যাকাউন্ট্যান্ট নোমান রোহিদ, জাপান চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের ডা. শেখ আলালুজ্জামান, অস্ট্রেলিয়া চেম্বার অব কমার্সের জাফর হায়দার, বাংলাদেশ ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চান্সেলর আবু বকর হানিপ।
অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন আল হারমাইন পারফিউম গ্রুপের এমডি মাহতাবুর রহমান নাসির, আল মাতিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান জুমা মাদানি, গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ, রিয়েলটর নূরুল আজিম, সিপিএ মোহাম্মদ চিশতী, এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সেক্রেটারি আইয়ুব আলী বাবুল, বিজনেস আমেরিকার এডিটর এনামুল হক এনাম।
অধিবেশনে ৩৫ দেশ থেকে প্রায় ২০০ প্রবাসী বাংলাদেশি, কূটনৈতিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের শতাধিক বিনিয়োগকারী এবং সারা বিশ্বের ব্যবসায়ী সংগঠন ও তাদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আমিরাতে আসা অতিথি ব্যবসায়ীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। শেষ দিনে সমুদ্রভ্রমণের মাধ্যমে সামিট শেষ হয়।
