রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নতুন বছর নতুন স্বপ্ন

ক্যালেন্ডারের পাতায় হাজির হলো নতুন একটি বছর। বিশেষ করে বছরের প্রথম দিনটি আমাদের মাঝে আসে অনেক স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে, যার মাধ্যমে আমরা আলোড়িত হই। নিত্যনতুন পরিকল্পনার কথা ভাবার পাশাপাশি আমরা সামগ্রিকভাবে নিজেদের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়েও ভাবি। আগের বছরের উত্থান-পতনের হিসাব-নিকাশ তো থাকেই, নতুন বছরে আমাদের জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবন কেমন যাবে, তা নিয়েও নানা অঙ্গীকার থাকে সকলের। সামনেই জাতীয় নির্বাচন। সর্বোপরি নতুন বছরে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন একদল তরুণ। গ্রন্থনা করেছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ২২:৪৫

মো. আবু রাহাত
জলবায়ু নিরপেক্ষ ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-ই হোক নতুন বছরে বাংলাদেশের পাথেয়
মো. আবু রাহাত, ইনোভেশন এন্ড সাসটেইনেবিলিটি অফিসার, এনভোলীড লিমিটেড |

নতুন আশা আজি এই নতুন প্রভাতে, নতুন উদ্যমে ছুটি সম্মুখের হাতছানিতে।
স্বাগত ২০২৪। সময়ের পরিক্রমায় আরও একটি বছর আমাদের মাঝে সমাগত হয়েছে। নতুন আশার ডালি সাজিয়ে, আমরাও তৎপর নতুন বছরকে সফলতায় রাঙাতে। হাজারো সম্ভাবনার পশরা নিয়ে আসা নতুন বছরকে, সফলতার রঙে রাঙাতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
নতুন বছরে আমারও এমনই অভিপ্রায়। বছরের শুরু থেকেই একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরী করে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। মহান আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। চাই, ২০২৪-হউক একটি কর্মময় বছর।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। বছরের শুরুতেই যেহেতু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই চাওয়া থাকবে একটি অবাধ-নিরপেক্ষ-অংশগ্রহণমূলক-উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার। যোগ্য-প্রতিনিধিত্বশীল-দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হউক, এই প্রত্যাশাই করি। উদ্ভাবন, অংশীদারিত্ব, গুণগত শিক্ষা, দক্ষতা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং জলবায়ু নিরপেক্ষ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-ই হোক নতুন বছরে বাংলাদেশের পাথেয়।
তরুণরাই বাংলাদেশের প্রাণ। তারুণ্যেই শক্তি। তারুণ্যই মুক্তি। তবে, মেধাবী তরুণদের বিদেশ প্রীতি আর ক্রমবর্ধমান মেধা পাচার যদি চলতে থাকে, তবে তা হবে বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি। যোগ্য ও মেধাবী তরুণদের উপযুক্ত মূল্যায়ন, যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুতসই পারিশ্রমিক ও উন্নত কর্মপরিবেশ প্রদান, উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং স্বজনপ্রীতি রোধই হতে পারে এ সমস্যা থেকে উত্তরণের কার্যকরী হাতিয়ার।


শাকিরুল আলম শাকিল
প্রতিষ্ঠিত হোক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ
শাকিরুল আলম শাকিল, শিক্ষার্থী, সিএসই বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি |

বছরের শেষে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কেমন গেল গোটা বছরটি তার হিসাব-নিকাশের খাতা খোলা হয়। চুলচেরা বিশ্লেষণ হয় অতীতের সব ভুলত্রুটি, ব্যবস্থাপনা ও দুর্গতির; চলে শুধরে নেওয়ার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। তবে একটি জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা বিবেচনা করতে গেলে সে জাতির দেশপ্রেম ও বোধের ভিত্তি মজবুত করার প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধের নেপথ্যে আমাদের চেতনা ছিলো একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা। এই সুখী দেশ গড়ে তুলতে যেমন প্রয়োজন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি অর্জন করা তেমনি জরুরি একটি দক্ষ জনগোষ্ঠী ও জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগী হওয়া। কেননা অর্থনৈতিক সক্ষমতা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে, সামাজিক সক্ষমতা আমাদের সামাজিক ভিত্তিকে মজবুত করতে পারে, কিন্তু সেই ভিত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, টেকসই করার জন্য প্রয়োজন পড়ে একটি দক্ষ জনগোষ্ঠীর। আর দক্ষ জনগোষ্ঠী গঠনে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনের কোন বিকল্প নেই।
গত কয়েক দশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে আমরা স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন করেছি, মেট্রোরেল নির্মাণ করেছি, কর্ণফুলী টানেল চালু করেছি অর্থাৎ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এসব অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে বহির্বিশ্বের উপরে। কারণ এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিসমূহ উৎপাদন করার সক্ষমতা আমাদের এখনো আসেনি, প্রযুক্তিকে পরিচালনা করার মতো দক্ষ জনশক্তিও আমাদের এখনো তৈরি হয়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে আমাদের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী আছে। এই জনগোষ্ঠীকে যদি একটি জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি, তাদের ভিতরে ন্যায়-নীতিবোধ, দেশপ্রেম জাগ্রত করতে পারি তবে জাতির এগিয়ে যাওয়ার পথ খুব ত্বরান্বিত হবে। এজন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হোক এই নতুন বছরের প্রত্যাশা।

 

জহিরুল কাইউম ফিরোজ
বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশও ঢেলে সাজাচ্ছে নিজেদের
জহিরুল কাইউম ফিরোজ, গণমাধ্যমকর্মী |

পুরোনো সূর্যটা আজও উঠেছে। তবে, ক্যালেন্ডারের পাতা জানান দিচ্ছে নতুন আরেকটি বছরের। ২০২৩ গত হয়ে স্থান করে দিয়েছে ২০২৪-কে। চলতি  শুরুটা হচ্ছে পরিবর্তন দিয়ে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারাই নির্বাচিত হয়ে আসুক, নতুন রূপেই কাজ শুরু করবে। কালের নিয়মই এটি। অতীতকে পেছনে ফেলে নতুনকে স্বাগত জানানো। নতুন ভোর মানে, মনের বারান্দায় উঁকি দেওয়া সদ্যজাত স্বপ্নের কিরণ।
বাংলাদেশের জন্য ২০২৩ ছিল ঘটনাবহুল। অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের পরও বিদায়ী বছরে বেড়েছে উন্নয়ন। সামাজিক ও বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে তরুণরা সোচ্চার হয়েছে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তনের শুরুটা হবে এ বছর থেকে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশও ঢেলে সাজাচ্ছে নিজেদের।
একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে চাই টেকসই পরিকল্পনা। চাই, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
নতুন বছর এলেই আমরা নানাবিধ পরিকল্পনা সাজাই। ভাবনার ডালপালা মেলে দেই। সময়ের সঙ্গে সেসব কেমন যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সকলকে। একদিন শুরু করব, এমনটি না ভেবে এই মুহূর্ত থেকেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে অন্যতম জরুরি হচ্ছে, মিতব্যয়ী হওয়া। জীবনযাত্রার মান যত উন্নত হচ্ছে, আমরা ততটাই খাপছাড়া হচ্ছি। এই প্রবণতা থেকে দেশ ও দশ সবাইকেই বেরিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে বেকারত্ব কিংবা দারিদ্রের অভিশাপ থাকবে না। বাংলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে বোঝা না ভেবে তাদের মানব সম্পদে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ নেওয়াটা হতে পারে আগামীর টার্নিং পয়েন্ট।

 

অন্তরা আফরোজ
তরুণদের প্রাধান্য দেবে, এমন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসুক
অন্তরা আফরোজ, চতুর্থ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ |

বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনা, শিকড়ে আমার তাই অরণ্যের বিশাল চেতনা'- সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আগামী' কবিতার এই চরণগুলো মনে করিয়ে দেয় ভবিষ্যতের কথা। যে আগামীতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে প্রধান হাতিয়ার আজকের তরুণ সমাজ। তারুণ্যের আলোয় কাটে সমাজের অন্ধকার। সমাজকে, দেশকে আলোকিত করা তারুণ্যের মূল লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশে তরুণরা এগিয়ে যাচ্ছে। তারা এখন দেশের সীমান পেরিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্ব দুয়ারে প্রতিনিধিত্ব করছে লাল-সবুজের। কেউ কেউ প্রতিভাধর হয়েও ঝরে পড়ছেন সহযোগিতার অভাবে৷ সামনেই দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। পরবর্তীতে যারাই আসুক সরকার প্রধান হিসেবে, তরুণদের ভাবনাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া এবং আলোচনায় বসা উচিত৷
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয় তরুণদের। অথচ প্রায় প্রতিটি সেক্টরে তাদের অর্জন আছে। তারুণ্যের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা, তারা আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করতে পারে৷ সেসব চিন্তার বাস্তবায়ন হলে আখেরে দেশেরই লাভ।  আগামীর বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে৷ যার অন্যতম মূল শর্তই হলো কর্মসংস্থান তৈরি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব আধুনিক হচ্ছে।  সেই তুলনায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। বাংলাদেশ বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ। এটি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য অসুবিধা। কিন্তু, এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে সরকারকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। এদিকটায় সবার নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। আগামী প্রজন্মকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে চাই সচেতনতা ও পরিবর্তন। পরিবর্তন শুরু হোক নিজেকে দিয়েই। সর্বোপরি বলতে চাই, তারুণ্যের মেধা ও বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেবে সরকার, এটাই প্রত্যাশা।

 

তামিম হাসান
নবউদ্যমে এগিয়ে যাক বাংলাদেশের পোশাকশিল্প
তামিম হাসান, শিক্ষার্থী‚ সরকারি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, খুলনা |

নতুন একটি বছরের প্রথম দিনে দাঁড়িয়ে আমরা। সকলের মনে নতুন আশা, নবভাবনা এবং অসংখ্য চিন্তা। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে পোশাক শিল্পের ভূমিকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সটাইল ভিত্তিক শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। পোশাকশিল্পকে আরও উন্নত করতে এবং দেশে উৎপাদিত পোশাকের মান বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকখাত থেকে এবং ৮১ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগ হয় টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও প্রসারে পোশাক খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গতবছর ২০২৩ এ দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিগত বছরের ব্যবধানে প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
পোশাক খাতের রপ্তানি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবেষণা বিভাগ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো। সেখানে দেখা গিয়েছিলো ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক খাতের রপ্তানি বা মূল্য সংযোজন ছিল ৮২২ কোটি মার্কিন ডলারের। বাংলাদেশে পোশাক খাতে কাজ করছেন ৩২ লাখ শ্রমিক। পোশাকশিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদান, শ্রমিকের নিরাপত্তা আনায়নে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সবার প্রতিশ্রুতি হোক সঠিক শিক্ষা সচেতনতার ও সুরক্ষার। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাক প্রতিটি ঘরে প্রতিটি স্তরে। তরুণ প্রজন্মের সঠিক শিক্ষা ও দক্ষতায় ‘এগিয়ে যাক বাংলাদেশের পোশাকশিল্প’, শপথ হোক সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার। নতুন বছরে এগিয়ে যাক দেশ। নতুন আঙ্গিকে শুরু হোক তারুণ্যের জয়যাত্রা—এটাই প্রত্যাশা।


মেহেজাবিন বিনতে হাসান
সকলের ভালোবাসায় মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক
মেহেজাবিন বিনতে হাসান, শিক্ষার্থী, সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ, ঝিকরগাছা, যশোর |

নতুন বছর আসে নতুন নতুন আশা-সম্ভাবনা, প্রাণের নতুন স্পন্দন, বিগত দিনের ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে। গেল বছরের সব কিছুকে পেছনে ফেলে নতুন বছরের প্রত্যাশা অমিত সম্ভাবনার পথে শুধুই এগিয়ে চলা। বিগত বছরে পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আফসোস আর অভিযোগ থেকেই যাবে কিন্তু নয়া উদ্যম নিয়ে নতুন বছরে দেশত্ববোধ ও মানবতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে। মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, তরুণবান্ধব পরিবেশ, কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানের উন্নয়নের জোয়ার আসুক নতুন বছরে। বিগত বছরগুলোর ভুলগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তৈরি হোক নতুন অধ্যায়। নতুন বছরের উদিত সূর্যের নব আভা আমাদের মনে সঞ্চার করুক নতুন প্রাণশক্তি। মানুষ নিজ নিজ জায়গায় সংবেদনশীল হোক, মানবিক হোক। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি অব্যাহত থেকে একটি ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। এই ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সততা, শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। যখন মানুষের শুভবোধ জাগ্রত হবে, যখন ন্যায়নিষ্ঠতা নিয়ে এগিয়ে যাবে আগামীর দিকে তখন শুধু নতুন বছর নয়, নতুনের মতো হয়ে উঠবে প্রতিটি দিন। ২০২৪ সকলের জন্য সুন্দর, সাফল্যমণ্ডিত এবং সুবাসে ভরা হাস্যোজ্জল একটা বছর হোক—এমনটাই প্রত্যাশা।

 

তানজিদ শুভ্র
নয়া বছরে নানা অপূর্ণতা কাটুক
তানজিদ শুভ্র, সদস্য, তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় |

কালের গহ্বরে মিলিয়ে যাচ্ছে আরেকটা খ্রিষ্টীয় বছর। নতুন দিনে বর্ষপঞ্জিতে যোগ হবে নতুন পাতা, ২০২৪ সাল। পুরনো স্মৃতি আর নতুন বছর নিয়ে সবারই প্রত্যাশার গল্প রয়েছে।
সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত চলমান প্রক্রিয়ায় চলতে থাকে। তবুও যেন ডিসেম্বরের শেষ সূর্যাস্ত আমাদের আগের বারো মাসের হিসেব মনে করিয়ে দেয়। হারিয়ে যাওয়া বছরে রয়ে যায় আমাদের অজস্র স্মৃতি; সুখের কিংবা দুখের। কোনো গল্প আনন্দের, কোনোটা বেদনার, আবার হয়ত থাকে কোনো ব্যর্থতা কিংবা সফলতার গল্প, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনার গল্পও জমা হয় এক বছরে।
২০২৩ সাল। প্রতি বছরের মতোই প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি নিয়েই শেষ হচ্ছে। আমার অপ্রাপ্তিগুলো যার পূর্ণতা; তার হাসিতে আমিও খুশি। ব্যস্ততার ভীড়ে বেদনা লুকিয়ে এগিয়ে চলছি সামনের পথে। শিক্ষাবর্ষ হিসেবে কতখানি ফলপ্রসূ হয়েছে এ বছর জানি না। বৃহৎ ক্যাম্পাস, বড় পরিচয় কোনোটাই যখন নিজের করে নেওয়া হয় নি তখন প্রাপ্ত পরিসরে নিজেকে তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। এই পথচলায় শিক্ষকমণ্ডলীদের স্নেহময় প্রেরণা সামনে এগিয়ে যেতে সাহজ জোগায়। পেশাগত কাজে কিংবা একাডেমিক গণ্ডিতে যাদের সাথে নতুন করে জানাশোনা হয়েছে তাদের অনেককে পেয়েছি সহযোগী হিসেবে যাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সময়ের পরিক্রমায় হারানোর তালিকায় থেকে যায় কিছু মানুষও, কাছের মানুষ যারা তাদের কেউ হারালেই টের পাওয়া যায় হৃদয়ের গভীরতায়। বছর শেষে হারানোর তালিকায় যারা যুক্ত হয়েছে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।
২০২৪ কিংবা পরবর্তী সময় প্রভু আমার সফলতার দ্বার খুলে দিক। বাবা-মা সহ ভালোবাসার মানুষদের প্রত্যাশিত সফলতা অর্জনের পাশাপাশি নিজের জীবনের জন্য কিছু অর্জন হোক- যা এ জীবনের পরেও ইহলোক ছাড়িয়ে পরকালে আমার পাথেয় হবে। নতুন বছর সবার ভালো কাটুক, যত অপূর্ণতা আছে তা কেটে যাক, প্রাপ্তির তালিকা বৃদ্ধি হোক। পৃথিবীবাসী সুস্থতায় বাঁচুক- হ্যাপি নিউ ইয়ার।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন