ভোলার লালমোহনে ইউপি সচিবের বাসা থেকে পত্রবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার কর্তারহাট এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সৌদি প্রবাসী জসিম হাওলাদারের মেয়ে।
জানা গেছে, লামিয়ার কোনো ভাই নেই। চার বোনের মধ্যে দেখতে ফুটফুটে লামিয়া সবার ছোট। বাবা সৌদি আরব থাকে। অস্টম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় প্রায় ১ বছর আগে লামিয়াকে বাল্যবিয়ে করে শরীফ। লামিয়া এখন কর্তারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। তার রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
নিহতের শ্বশুর ছিদ্দিক মিয়া জানান, ঘটনার দিন বিকালে আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এ সময় বাসায় কেউ ছিল না। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি দ্বিতীয় তলার নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে সে ঝুলছে। পরে লাশ নামিয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে কী কারণে এবং কীভাবে লামিয়া মারা যেতে পারে তার কিছুই বলতে পারছি না।
লামিয়ার বড় বোন তানিয়া জানিয়েছেন, গত প্রায় ১ বছর আগে ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে মো. শরিফ লামিয়াকে বিয়ে করে। এটি শরীফের দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে লামিয়ার প্রতি কুনজর দেয় শ্বশুর ছিদ্দিক। বিষয়টি লামিয়া তার বোন ও মাকে জানায়। সম্ভবত শ্বশুরের অনৈতিক আচারণের কারণে লামিয়ার এমন পরিণতি ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে লামিয়ার স্বামী শরিফকে পাওয়া যায়নি তবে শ্বশুর ছিদ্দিক মিয়া জানান, এ ধরনের সন্দেহ এবং অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদ জানান, পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদঘাটনের দাবি করছে লামিয়ার পরিবার। আমরাও চাই সঠিক তদন্ত ও বিচার হোক।
লালমোহন থানার ওসি মাহাবুবুল আলম জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহতের শ্বশুর ছিদ্দিক মিয়া লালমোহন উপজেলার ১ নম্বর বদরপুর ইউনিয়নের সচিব। তার বাড়ি লালমোহনের কর্তারহাট এলাকায়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

