চট্টগ্রামে ত্রুটিপূর্ণ নেটওয়ার্ক, আবাসিকে গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৫

চট্টগ্রাম গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নগরীর কিছু এলাকায় বিতরণ পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় আবাসিকে গ্যাস মিলছে না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আবাসিকে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টার বেশি গ্যাস মিলছে না। এতে গ্রাহকদেরকে রান্না নিয়ে নিত্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। গত প্রায় দুই মাস যাবত চট্টগ্রামে এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। চাহিদা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও দৈনিক ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রাপ্ত গ্যাস অধিকাংশই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সারকারখানায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। বিশেষ করে আবাসিকে গ্যাস নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অধিকাংশ এলাকায় আবাসিকে রান্নার চুলা জ্বলছে না। প্রতিদিন সকাল ৯টায় পাইপলাইনে গ্যাস চলে যাচ্ছে। আবার বেলা তিনটার পর এলেও সন্ধ্যা ৬টায় আবার চলে যায়। পরে রাত ৯টার পর পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বাড়তে থাকে।

নগরীর চান্দগাঁও, বৃহত্তর বাকলিয়া, পাঁচলাইশ, আন্দরকিল্লা, নাসিরাবাদ, লালখান বাজার, ডবলমুরিংসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিকে গ্যাস মিলছে না। এতে যারা লাইনের গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, নগরীর বিতরণ লাইনগুলো অনেক পুরোনো। শুরুতে সংযোগ কম থাকলেও পরবর্তী সময় যখন সংযোগ চালু ছিল, তখন বিভিন্ন স্থানে আবাসিকে হাজারো নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গত সাত থেকে আট বছর যাবত আবাসিকে নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু যারা ভবন সম্প্রসারণ করেছে, তারা অবৈধভাবে চুলা বর্ধিত করে গ্যাস ব্যবহার করছে। শুরুতে যে সাইজের বিতরণ পাইপলাইন বসানো হয়েছে, পরবর্তী সময় সংযোগ বাড়লেও বিতরণ লাইন বড় করা হয়নি। এতে সংযোগ বেশি হওয়ায় অনেক গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছে না। মূলত নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে আবাসিকে গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আবার গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে চাপও বাড়ানো যাচ্ছে না। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডিআরএস নামের বাল্ব রয়েছে। এখন বাল্বের কাছাকাছি থাকা গ্রাহকরা গ্যাস পেলেও দূরের আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দুটির স্থলে বর্তমানে একটি চালু রয়েছে। একটি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে দৈনিক ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে চট্টগ্রামে গ্যাস-পরিস্থিতি আগামী মার্চের আগে সম্ভব হবে না, সংশ্লিষ্টরা জানান। সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় সার উত্পাদন বাড়াতে হচ্ছে। চট্টগ্রামে কাফকো ও সিইউএফএল সারকারখানায় দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাসের চাহিদা থাকে। আবার সেচযন্ত্রের প্রয়োজনে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ দিতে হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম