গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন প্রার্থী। রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় জেলার ৭ উপজেলার ৬৪৬টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৪২৩টি কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করছেন ১৩ হাজার ৯১৫ জন প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু তীব্র শীতের এই সকালে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মোত্তালিব জানান, মোট ভোটার সংখ্যা বিশ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ১১ হাজার ৫৬৮ জন, নারী ভোটার ১০ লাখ ৪১ হাজার ১০৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২১ জন রয়েছেন।
জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদসহ এগারোটি রাজেনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৩৫ জন প্রার্থী।
এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০ জন প্রার্থী। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারীর (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ নিগার (ঢেঁকি), জাসদের গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ (মশাল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির আইরিন আক্তার (হাত ঘড়ি), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিযোজাটের খন্দকার রবিউল ইসলাম (ঘড়ি), এনপিপির মর্জিনা খান (আম), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (গামছা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ফখরুল হাসান (ডাব), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের ওমর ফারুক সিজার (টেলিভিশন), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন (ট্রাক)। এখানে ভোটার ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১৪টি।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে প্রার্থী ৫ জন। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ সারোয়ার কবীর (ট্রাক), জাসদের গোলাম মারুফ মোনা (লাঙ্গল), এনপিপির জিয়া জামান খান (আম), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. মাছুমা আক্তার (ঈগল)। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১১৪টি।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে প্রার্থী ১১জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি নৌকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আ’লীগের উপদেষ্টা মফিজুল হক সরকারের (ঈগল), সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদ্য পদত্যাগ করা উপজেলা চেয়ারম্যান সাহারিয়া খান বিপ্লব (ট্রাক), এবং আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা আজিজার রহমান (ঢেঁকি) ও আবু জাহিদ নিউ (কেটলি), জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বী চৌধুরী (লাঙ্গল), জাসদের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি (মশাল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জাহাঙ্গীর আলম (আম), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মনজুরুল হক সাচ্ছা (নোঙ্গর), কল্যাণ পার্টির মাহমুদুল হক (হাতঘড়ি) এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মোস্তফা মনিরুজ্জামান (গামছা)। মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৬ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ (নৌকা), জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান (লাঙ্গল) ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সংসদ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (ট্রাক)। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৯টি।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি)-আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে তারমধ্যে গত বুধবার (৩ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়িয়েছেন জাপার আতাউর রহমান সরকার আতা (লাঙ্গল)। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন নৌকা, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ফারজানা রাব্বী বুবলী (ট্রাক), স্বতন্ত্র শামসুল আজাদ শীতল (ঈগল পাখি), বিকল্প ধারার জাহাঙ্গীর আলম (কুলা) ও এনপিপি’র ফারুক মিয়া (আম), মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৫টি।
রিটানিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল জানান, জেলায় মোট ৩৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২৩ প্লাটুন বিজিবি ও ২৫ প্লাটুন সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার কামাল হোসেন বলেন, প্রতিটি আসনে র্যাবের ০২ টি করে মোট ১০টি টিম, ০২ (দুই) ইউনিয়নের জন্য পুলিশের একটি করে টহল টিম এবং ৫৬ জন ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন করা হয়েছে।
