কক্সবাজারের চকরিয়ায় চুরির অপবাদে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ২ যুবককে বেধম মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক যুবকের স্ত্রী বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের করমুহুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন-চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের করমুহুরীপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে বেলাল আহমদ (৪৫), সামশু আলমের ছেলে নেজাম উদ্দিন (৩৮), মনিরুজ্জামানের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩৫), মৃত নুরুল ইসলাম বাদশার ছেলে আলমগীর (৪০), মৃত কামাল হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৬), ইসরাফিলের ছেলে আব্দুল মালেক (৩২), আবদুর রশিদের ছেলে ইদ্রিস আহমদ (২৯)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
মামলায় বলা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী দুই যুবকের বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। এ সময় ভুক্তভোগী এক যুবকের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অভিযুক্তদের বাঁধা দিলে তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।
পরে ভুক্তভোগী দুই যুবককে স্থানীয় ছগিরার দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে করমুহুরীপাড়া স্টেশনে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরাজ উদ্দিন মিরাজ বলেন, কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল লোকজন চুরির অপবাদে তাদেরকে ধরে এ ধরনের অমানবিক শাস্তি দিয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের চুল ন্যাড়া করার চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ নিয়ে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্তরা ওই দুই যুবককে নির্মাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ তুলে ধরে নিয়েছিল। তাদের কাছে চুরি যাওয়া কোনো মালামাল তখন পাওয়া যায়নি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ।
চকরিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, চুরির ঘটনায় দুই যুবককে গলায় জুতা পরিয়ে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও একটি অপরাধ। চুরি করে থাকলে তাদেরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন বিচারের নামে আইন লঙ্ঘন করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
