বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যৌনতা নিয়ে মৌনতা ভেঙে জনপ্রিয় সীমা আনন্দ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১৪:১৪

যৌনশিক্ষা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত। এমনকি সমাজেও এ বিষয়ে শিক্ষার প্রচার কিংবা প্রসারে নেওয়া হয় না তেমন কোনো উদ্যোগ। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠলে অনেকেই এড়িয়ে যান।

সমাজে যৌনতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিজ উদ্যোগেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ৬২ বছরের সীমা আনন্দ। একজন বিখ্যাত গল্পকার, যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষাবিদ, ইউটিউবার ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট সীমা। পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া প্রেম ও যৌনতার সম্পর্ক এবং মানব আচরণ-সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এই ইউটিউবার, লেখক ও বক্তা।

যৌনতা-বিষয়ক আলাপে পুরাণের সঙ্গে বিজ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে খোলামেলা আলোচনায় বিশেষ করে ভারতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সীমা। ১৯৬২ সালের ১৮ আগস্ট ভারতে উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তার দাদি ছিলেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট। বাবাকে হারান হাইস্কুলে পড়ার সময়েই। তখন মারাত্মক বিষণ্নতা গ্রাস করে তাকে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করে ২৩ বছর বয়সে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। তৃতীয় সন্তান জন্মদানের পর পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন সীমা। ন্যারেটোলজিতে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। ন্যারেটোলজি হলো আখ্যান ও গল্প বলা বিষয়ক কৌশল। যার কারণে তার উপস্থাপনা হয় অত্যন্ত সুন্দর, সাবলীল আর শ্রুতিমধুর।

তার শিক্ষকরা তাকে বিষণ্নতা থেকে বেরিয়ে নিজের সম্ভাবনাকে যথাসম্ভব বিকশিত করে স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করেন। লন্ডনে এক শিক্ষক সীমাকে বলেছিলেন, ‘জীবনকে ছোট ছোট অনেকগুলো গল্প ভাবো। সব গল্পের শেষটা ‘হ্যাপি এন্ডিং’ না-ও হতে পারে। তবে মনে রাখবে, জীবনের গল্পটা যেন অন্যকে অনুপ্রাণিত করে।’

সীমা আনন্দ তার স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে থাকেন লন্ডনে। মাঝেমধ্যে ভারতে আসেন সীমা। বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। ২০১২ সালে ‘দ্য আর্ট অব সিডাকশন’ বিষয়ে টেড টকে তিনি আলোচনা করেছিলেন। ইউটিউবে এখন পর্যন্ত সেই ভিডিও দেখা হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখের বেশিবার।

যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান আর প্রশ্নেরও উত্তর দেন সীমা। প্রতিটা ভিডিও লাখ লাখ মানুষ দেখেন। তবে ইউটিউবে তিনি যাত্রা শুরু করেন ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১১ লাখ আর ইউটিউব চ্যানেলে ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ২০১৭ সালে তার লেখা ‘দ্য আর্ট অব সিডাকশন’ বইটিও হয়েছে বেস্টসেলার।

সীমা মনে করেন, প্রতিটি ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই তাদের জীবনের প্রতিটি দিকের গল্প বুনতে পারে, তা হোক সচেতনভাবে কিংবা অবচেতনভাবে। যৌনতা বিষয়ে ভারতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে সীমা বলেন, ‘ভারতে দুর্ভাগ্যবশত এখনো যৌনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার পরিবেশ নেই। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনের দাবি সত্ত্বেও, এত খোলাখুলি আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়নি। পরিবর্তন ঘটবে ধীরে ধীরে, রাতারাতি সম্ভব নয়।’

যৌনতা নিয়ে আলোচনা করা শুরুর পর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সীমা বলেন, ‘শুরুতে নেতিবাচক মন্তব্য আমাকে বিরক্ত করেছিল। কিন্তু সময় ও গভীর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন শ্রোতাদের মধ্যে গালিগালাজ করার মানসিকতা অনেক কমে গেছে। প্রকৃত শ্রোতারা প্রায়ই নীরব থাকে। এ বিষয়টি যখন বুঝতে পারি তখন নেগেটিভিটির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস পাই।’

ইত্তেফাক/এআই