এবার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ লাখ টন

লাভের আশায় মাঠে ৩৯ হাজার লবণচাষি

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব

‘আমদানি আতঙ্কে’ প্রান্তিক চাষিরা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৩০

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মাঠে জমে উঠেছে লবণ উৎপাদন। চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) ২৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এবার মাঠে নেমেছেন প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮৭ জন লবণচাষি। গত অর্থবছরের মতোই লাভের স্বপ্ন নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনায় চাষিরা এবার ৬৬ হাজার ৪২৪ একর জমিতে লবণ চাষ করছেন। ইতিমধ্যে অনেক চাষি নতুন মৌসুমের কয়েক চালান লবণ তুলে ফেলেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়েই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, ভয়ও কাজ করছে চাষিদের মধ্যে। মৌসুমের ফাঁকে যদি কোনো কারণে লবণ আমদানি করা হয়, তখন উৎপাদিত লবণের ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কা বেশি। এমনটি হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ খাত লবণশিল্প। ফলে একধরনের আতঙ্কে আছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি মধ্যস্বত্বভোগী সরকারের উচ্চপর্যায়ে ভুল বুঝিয়ে লবণ আমদানির আয়োজন করতে পারে। অথচ জেলার সাত ও চট্টগ্রামের দুই উপজেলায় লবণ চাষে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক চাষিরা। গত ৩০ অক্টোবর চলতি লবণ মৌসুম শুরুর পর থেকে বাঁশখালী ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং অন্যান্য এলাকায় কয়েক হাজার মেট্রিক টন লবণ ইতিমধ্যে উৎপাদিত হয়েছে।

জানা গেছে, ধানকাটা শেষ হওয়ার পরপরই লবণ চাষে নামার কার্যক্রম শুরু হয়। গত মৌসুমে লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবারও আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন হাজারো চাষি। শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রীসহ মাঠে গিয়ে নীতি মেনে লবণ চাষের কাজ উদ্বোধন করেন। মৌসুমের শুরুতে প্রথম লবণ উৎপাদিত হয় বাঁশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায়। পলিথিনে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডী, ঈদগাঁওয়ের পোকখালী ও গোমাতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা মনোযোগী হয়ে মাঠে কাজ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা আনন্দে লবণ উৎপাদনে সময় ব্যয় করছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (বিসিক) লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয় কক্সবাজারের পরিদর্শক (উন্নয়ন) মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, নভেম্বর মাসের শুরুতে বর্ষার ধানের চাষ উঠে যায়। গত বছর লবণের ন্যায্যমূল্য পেয়ে প্রান্তিক চাষিরা দ্বিগুণ উত্সাহে মাঠে নেমেছে। এ বছর লবণের গড়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২৬ টাকা।

ইত্তেফাক/এমএএম