রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

'উন্নয়নের অগ্রযাত্রার জন্য প্রয়োজন নলেজ রেমিট্যান্স'

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ১৯:১২

২০ জানুয়ারি শনিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৩ উদযাপন করে। জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মোঃ সুফিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত প্রবাসীদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির বাণি পাঠ করেন দ্বিতীয় সচিব আব্দুল্লাহ বিন মাহবুব, প্রধানমন্ত্রীর বাণি পাঠ করেন প্রথম সচিব মাসুদ পারভেজ, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রাজীবুল ইসলাম খান, অভিবাসীদের মর্যাদা ও কল্যাণ শীর্ষক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ড. আমিন আহম্মেদ খোন্দকার ও ড. কাজী মনিরুল ইসলাম।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জমাদার নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান, ডা. শেখ দিল আফরোজ, শাহনেওয়াজ রহমান, কামাল হোসেন প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২৩ এবং প্রথম বারের মতো জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোঃ সুফিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রানিশ্চিতকল্পে অনিবাসী বাংলাদেশিদের থেকে আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রয়োজন নলেজ রেমিট্যান্স। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার সব পর্যায়ে অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।  

তিনি আরো বলেন, সরকার প্রবাসীদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ ডিসেম্বর-কে “জাতীয় প্রবাসী দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাইরে প্রবাসীদের কল্যাণের বিশেষ গুরুত্বের আলোকে জাতীয় ডায়াসপোরা নীতি প্রণয়নে সচেষ্ট রয়েছে। এক্ষেত্রে, প্রচলিত আইনসমূহ-কে প্রবাসীবান্ধব করা, দ্বৈত ট্যাক্স অবলোপন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিভিন্ন মহলের মতামত রয়েছে।

আলোচনাপর্বে সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা দ্বৈত নাগরিকদের ব্যাংক ঋণ সুবিধা, নিয়মিত কন্স্যুলার ক্যাম্প আয়োজন, বৈধপথে অর্থপ্রেরণের সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ, পেনশন স্কিমে অর্থপ্রেরণের বাঁধা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারেরকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রদূত তাঁদের পরামর্শ, সুপারিশ ও নানাবিধ সমস্যাসম্পর্কে অবহিত হন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। প্রবাসীরা তাঁদের কল্যাণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরপর দুইবছর সিআইপি (এনআরবি) মনোনীত হওয়ায় ড. আমিন আহম্মেদ খোন্দকার-কে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ড. কাজী মনিরুল ইসলাম-কে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আশরাফুল ইসলাম আজাদ, মাসুম খান দুলাল, মোহাম্মদ আকবর আলী, শফিকুল জুনায়েদ আইয়ানসহ অনেকে।

ইত্তেফাক/এসসি