বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে কমেছে পাথর আমদানি

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:২০

দেশের একমাত্র চার দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় প্রায় দুই মাস ধরে পাথর আমদানিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন এলসি (ঋণপত্র) না পাওয়ায় পাথর আমদানি কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএজেন্ট সূত্রে জানা যায়, পাথরনির্ভর এ স্থলবন্দরটি নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও ডলারসংকটের কারণে পাথর আমদানিতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। আগের থেকে অনেক কম আমদানি হচ্ছে পাথর। যে সব ব্যবসায়ীর এলসি ছিল তারাই আমদানি করতে পারছেন। এতে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা কমায় বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক।

চার দেশীয় স্থলবন্দর (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান) বাংলাবান্ধায় ঘুরে দেখা যায়, পাথর আমদানি কমে যাওয়ায় কর্মচঞ্চল্য নেই। স্থলবন্দরের ইয়ার্ডগুলোও ছিল অনেকটা ফাঁকা। পাথর আমদানির কারণে এসব ইয়ার্ড সব সময় কর্মচঞ্চল থাকে। বন্দরের শ্রমিকদেরও কর্মহীন অলস সময় পার করতে দেখা যায়। শ্রমিকরা বলছেন, পাথর কম আসায় তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। এ সমস্যাটা দ্রুত নিরসন চান তারা। বন্দরের শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি প্রধানত পাথরনির্ভর। এখানে কমপক্ষে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করে সংসার চালান। লোড-আনলোড শ্রমিকরা বন্দরে ঠিকমতো ট্রাক না আসায় খুব দুর্ভোগে পড়ছেন। একদিন বন্দরে কাজ হলে পরের দিন দুদিনই কাজ পান না তারা। লোড-আনলোড শ্রমিক ছাড়াও পাথর ভাঙা কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক। পাথর না আসায় তারাও ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। তাই সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বাংলাবান্ধা সিএনএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডলারসংকটের কারণে বন্দরটিতে পাথর আমদানি কমে গেছে। যাদের আগের এলসি ছিল তারাই পাথর আমদানি করতে পারছেন। গত মাসে আমাদের আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনসহ ডলারসংকটে নতুন এলসি না হওয়ায় তা কিছুটা কমে এসেছে। ডলারের সংকট কেটে নতুন করে এলসি দেওয়া শুরু হলে আবার আগের অবস্থায় আমদানি শুরু হবে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে পাথর আমদানি কমে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ডলারসংকট। ডলারের কারণে এলসিতে অনুমতি মিলছে না। এ কারণেই স্থগিত হয়ে যাচ্ছে আমাদের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের পাথর আমদানি। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে, প্রাণ ফিরে পাবে বন্দরটি। বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও আগের তুলনায় পাথর আমদানি কিছুটা কমে গেছে। এখন গড়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ২০ থেকে ৩০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে আমদানি পণ্যের বেশির ভাগ পাথর। তারপরও পাথর আমদানি আগের তুলনায় কমেছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম