মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শনিবার বিকাল থেকে আবারও শুরু হয়েছে গোলাগুলি। রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু, উখিয়ার পালংখালী এবং টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ওপারে রাতভর চলা গোলাগুলিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সীমান্ত এলাকার মানুষ।
শনিবার বিকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মিয়ানমারের ছোঁড়া দুটি মর্টার শেল ও একাধিক গুলি এসে পড়েছে তমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়ায়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছে অনেকে। চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান রয়েছে বলে জানায় বিজিবি।
ধুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. আলম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে যে পরিমাণ গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে আগে তেমনটা শোনা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। রোববার সকালে তমব্রুর কোনারপাড়ার ইলিয়াস হোসেনের বসতঘরের টিনে পড়েছে মর্টার শেল। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
আশরাফুল ইসলাম তুহিন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, আমাদের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার শফিকুল ইসলামের উঠানে একটি মর্টার শেল এসে পড়ছে। ওপারে এখনও সংঘর্ষ চলছে। আমরা ভয়ে বাড়িঘর থেকে বের হতে পারতেছি না। কোনাপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার অনেক লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে।
তথ্য মতে, দীর্ঘদিন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে থেমে থেমে যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলা ও মর্টার শেল এসে পড়ছে নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের লোকালয়ে। এর আগেও মর্টার শেল ও গুলি এসে পড়েছে এই এলাকায়।
ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, মিয়ানমারে এখনো প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছি আমরা। এবার গোলাগুলির শব্দ বেশি হওয়ায় সীমান্তের বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে উখিয়া এবং টেকনাফ সীমান্তে রাতে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেলেও সকাল ৯টার দিকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাতে থেমে-থেমে গুলির শব্দ শোনা গেলেও সকাল নয়টার দিকে ব্যাপক গুলির শব্দ ভেসে আসে। ফলে সীমান্ত এলাকায় আবারও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমাদের সীমান্তে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে বরাবরের মতো রোহিঙ্গা এবং বিদ্রোহীরা যেন আমার দেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে।
বরাবরের মতোই সীমান্তে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে আছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একজন রোহিঙ্গাকেও আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
