বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:৩৩

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবন থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত অন্তরা পানুয়া পটুয়াখালী জেলা সদরের খলিসাখালী এলাকার অনুকুল চন্দ্র পানুয়ার মেয়ে। তিনি বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজ’র ডেন্টাল অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার সঠিক কারণ না জানা গেলেও মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের সূত্র বলছেম কারও সাথে সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি আত্মহনন করে থাকতে পারেন।

এদিকে আইএইচটি’র শিক্ষার্থী হলেও মরদেহ শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার হওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মৃতের রুমমেট সুমাইয়া জানিয়েছেন, কলেজের শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমনের মাধ্যমে তারা একদিন আগে এ কোয়ার্টের পেছনের ব্লকের ভবনের তৃতীয় তলার ফ্লাটটিতে ওঠেন। তিনি আরো জানান, তারা আগে যেখানে থাকতেন সেখান থেকে মাত্র একদিন আগে শেবাচিম হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের এ কোয়ার্টারের তৃতীয় তলার ফ্লাটটিতে ওঠেন। দোতলায় তাদের শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমন থাকেন এবং তার মারফতই তৃতীয় তলায় তারা উঠেছেন।

শিক্ষক সুমন সম্পর্কে মামা হন জানিয়ে সুমাইয়া বলেন, আমরা এখানে অল্প কয়েকদিনের জন্য থাকতে এসেছিলাম, নতুন বাসা নিয়ে সেখানে যাব। কিন্তু তার আগেই অন্তরা আজ আত্মহত্যা করলো। আত্মহত্যার কারণ জানা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্তরার রুমের জানালা দিয়ে দেখতে পাই সে ফ্যনের হুকের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে।

এদিকে অন্তরার ৪ বছর আগে জনৈক তাপস নামে এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে হয়। চাকরির কারণে তিনিও বরিশালে থাকেন না জানিয়ে সহপাঠীরা বলছেন, স্বামীর সাথে কলহ কিংবা অন্য কোন কারণে অন্তরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। সম্প্রতি অন্তরা মানসিক চাপে ছিলেন।

আইএইচটির শিক্ষক তাহেরুল ইসলাম সুমন ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, তৃতীয় তলার ফ্লাটটি খালি থাকায় সেখানে ওই দুই শিক্ষার্থীকে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু উপকার করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে তা তিনি জানতেন না। আর শিক্ষার্থীর বাহিরে এই মেয়েদের সাথে তার কোন ব্যক্তিগত পরিচয়ও নেই, কারও সাথে কোন সম্পর্কও নেই। তবে সুমাইয়া যে মামা দাবি করেছে সেটা জানালে তিনি সেটিকে সমর্থন করেন।

ফ্লাটের অবৈধ বাসিন্দা হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সবাই বিষয়টি জানেন হাসপাতালের কোয়ার্টার যাদের নামে অ্যালটমেন্ট হয়, তারা সেখানে থাকেন না। ভাড়া দিয়ে দেন। তিনিও দোতলার ফ্লাটটি ভাড়া নিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (ক্যাশ পিয়ন) আবিদ হাসানের কাছ থেকে। কিন্তু এ বিষয়ে আবিদ হাসানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে আবিদ হাসান সম্পর্কে ভাই হয় দাবি করে তিনি বলেন, তৃতীয় তলার ফ্লাটটি খালি থাকায় সেখানে ওই মেয়েদের থাকতে বলা হয়েছিল। আর শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি তারা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে হাসপাতালের কোয়ার্টাগুলো পরিদর্শন করেছেন। তখন তারা তৃতীয় তলার ফ্লাটটিতে কাউকে পাননি, বাহির থেকে তালাবদ্ধ পেয়েছেন। সকালেই শুনতে পেয়েছেন সেই ফ্লাটে এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতাল উপ-পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন জানিয়েছেন, কীভাবে মেডিক্যাল কলেজ থেকে একজন কর্মচারীর নামে ওই ফ্লাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা আমরা জানি না। তবে সম্প্রতি আমরা খতিয়ে দেখেছি কোয়র্টারগুলোর অনেক ফ্লাট খালি ও পরিত্যাক্ত রয়েছে। আবার কিছু বরাদ্দ হলেও সেখানে যথাযথ লোক থাকছেন না। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর তৃতীয় শ্রেণীর কোয়ার্টারে আইএইচটির ছাত্রীর অবস্থান এবং আত্মহত্যার বিষয়টি পুলিশের পাশাপাশি আমরাও খতিয়ে দেখবো এবং নিয়মানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে আইএইচটির শিক্ষক হয়ে সুমন কীভাবে মেডিক্যালের কোয়ার্টারে থাকছেন সেটি জানেন না জানিয়ে অধ্যক্ষ ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, গত ১ তারিখে ইন্সট্রাক্টর তাহেরুল ইসলাম সুমনের রংপুরে বদলি হয়েছে। তাকে এখনও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি, তবে বদলিজনিত কারণে তিনি ঢাকায় আছেন বর্তমানে এমনটাই আমি জানি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষার্থী যাদের বিয়ে হয়েছে- তারা অনেকেই বাহিরে থাকেন। অন্তরাও হোস্টেলে না থেকে বাহিরে থাকতো। তবে সে কোথায় থাকতো সেটি আমরা জানতাম না। সকালে তার আত্মহত্যার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাই। মৃত্যুর কারণও আমি বলতে পারবো না। আর অন্তরা মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে সেটি আমাদের আওতাভুক্ত এলাকা না। সেটি শেবাচিম হাসপাতালের কোয়ার্টার এলাকা। তাই সে কীভাবে সেখানে থাকতো তাও জানি না।

লাশ উদ্ধারকারী কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অন্তরার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে