সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:০১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক দম্পতিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের জঙ্গলে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং বহিরাগত ও অছাত্রমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক শাহেদ রানার সঞ্চালনায় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রববানী বলেন, 'সিন্ডিকেট থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে কিছু ত্রুটি রয়েছে, সেটা অবহিত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান যে সংকট, তার মূল কারণ নানা সংগঠনের ছত্রছায়ায় ক্যাম্পাসে আড়াই হাজার অবৈধ শিক্ষার্থী রয়েছে।'

তিনি আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদে অছাত্ররা হলে বসবাস করছেন। তাদের বিতাড়িত করা ছাড়া কোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন, তার হাতে এখনো তিনদিন সময় আছে। তিনদিনের মধ্যে যেকোনো মূল্যে তিনি বাস্তবায়ন করবেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন অতীতের মধ্যে তালবাহানা করে তবে আমরা একদফা আন্দোলনে যাবো।'

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলী বলেন, 'রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সর্বোচ্চ বিচার চাই। তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ন্যাক্যারজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই প্রস্তুতি দেখতে চাই। এছাড়া মোস্তাফিজুরকে পালাতে সহায়তাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'যদি ধর্ষককে পালিয়ে যেতে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহায়তা করে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচার চাই। আমাদের উদ্দেশ্য হতে হবে ধর্ষকদের বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জাগ্রত থাকা।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইন্সটিটিউট অব বিজনেস আ্যডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমরা দুঃখিত, লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। কিছু কুলাঙ্গার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে, সেটাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় তড়িৎ গতিতে ব্যবস্থা নেওয়ায় সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।'

তিনি আরো বলেন, 'অতীতে এরকম অনেক ঘটনা ঘটেছে, আসামী আটকও হয়েছে কিন্তু সঠিক বিচার হয়নি। তাই এই ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সকল অছাত্র, বহিরাগত ও কুলাঙ্গারদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করতে হবে।'

ইত্তেফাক/এআই