বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

আতঙ্কে ২ দিনেও বাড়ি ফেরেনি ঘুমধুম-তুমব্রুর বাসিন্দারা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:৪২

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে দিন কাটছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের। রকেট লাঞ্চার ও মর্টারশেলের গোলার ভয়ে সীমান্তের বাসিন্দারা ২ দিন থেকে ঘর-বাড়ি ফেলে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এ অবস্থায় তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এ সময় তিনি সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের খোঁজখবর নেন ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে বিজিবি মহাপরিচালক বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু ও ঘুমধুমসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে গত টানা ৪ দিনের ব্যাপক গোলাগুলির কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। আর এ জন্য সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সাধারণ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করতে হবে। এটা স্বাভাবিক যে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র থাকা সুখকর নয়। তবে নিজের জীবন রক্ষার জন্য যখন এ ধরনের পরিস্থিতি হয় তখন এতটুকু করতেই হবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজিবি কঠোরভাবে নজর রাখছে। বিজিবি সদস্য বৃদ্ধিসহ টহল বাড়ানো হয়েছে।

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢুকে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন ২৬৪ জন। তাদের আমরা বাসস্থান, খাবার ও নিরাপত্তা দিচ্ছি। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আটজনের মধ্যে চারজন কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও চারজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে বিজিবি মহাপরিচালকের সংবাদ সম্মেলন চলাকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং বিওপিতে নতুন করে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আরও ৬৩ সদস্য পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সরকারি বাহিনীর সদস্য দাঁড়িয়েছে ৩২৭ জনে। তারা মিয়ানমারের নাইচাদং বিজিপি ক্যাম্পের সদস্য বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এবি