বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

৯৯৯- এ ফোন পেয়ে অপহৃত পাঁচ নৃত্যশিল্পী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:০৭

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে বগুড়ার অপহৃত ৫ জন নৃত্যশিল্পীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোর ৫টার দিকে গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের পাঁচকাতুলী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

বগুড়ার একটি পল্লিতে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে তারা অপহৃত হয়। এ সময় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পাঁচকাতুলীর (পশ্চিমপাড়া) সাফিন মিয়া, আব্দুস ছালাম, মামুনুর রশিদ ওরফে নীরব হোসেন এবং মোস্তাসির। যে পাঁচজন নৃত্যশিল্পীকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন মোস্তাকিম, তাহাজ্জত, অর্কো, সামিয়া ও জয় শেখ।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পর ফটোগ্রাফার মোস্তাসির শিশির গাবতলী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে বিকালে গ্রেপ্তার ৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মির্জা শায়লা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গাবতলী থানা পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে বগুড়া সদর থানা এলাকার এক ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার বোন নৃত্যশিল্পী সামিয়া পপিসহ ৪ জনকে রামেশ্বরপুর গ্রামে অপহরণ করে রাখা হয়েছে। অপহরণকারীরা তার বোনের নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করেছে। এরপর পুলিশ অপহৃত পপির ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার অভিযানে নামে। 

তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় পুলিশ জানতে পারে রামেশ্বরপুরের পাঁচকাতুলী বুড়িতলা মোড়ে আরিফুল ইসলাম রাঙ্গা নামে এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত গোডাউনে অপহৃতদের রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরিফুলসহ বেশ কয়েকজন অপহরণকারী পালিয়ে যায়। তবে গ্রেপ্তার করা হয় ৪ জনকে। এ সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি চাপাতি ও ছুরিসহ মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। 

উদ্ধার হওয়াদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, মঙ্গলবার রাতে রামেশ্বাপুরের পাঁচকাতুলী গ্রামে এক বন্ধুর বাড়িতে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান পপিসহ তিন বন্ধু। রাত ১০টার পর অনুষ্ঠান শেষে অটোরকিশায় করে শহরে ফেরার পথে গ্রামের বুড়িতলা মোড়ে আরিফুল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন যুবক তাদের গতিরোধ করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের অন্য তিনটি অটোরিকশায় উঠিয়ে আরিফুলের পরিত্যক্ত গোডাউনে আটকে রেখে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে পপির নম্বর দিয়ে তার ভাইয়ের কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরিফুল ইট দিয়ে সামিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি মারাত্মক আহত হন। উদ্ধারের পর পপিকে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

গাবতলী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারী ওই চার যুবক অন্যদের নাম জানিয়েছে। তারা হলো ওই এলাকার আরিফুল ইসলাম রাঙ্গা, হৃদয়, শাহেদ ও আপেল। তাদের মধ্যে আরিফুল ও রাঙ্গা সব টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

ইত্তেফাক/পিও