বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজধানীতে বাড়ছে মোবাইল ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য 

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:১৭

রাজধানীর উত্তরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোর-ছিনতাইকারী ও পকেটমার সদস্যরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এয়ারপোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় হরহামেশাই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ কাজে বাধা দিলেই হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না ছিনতাইকারীরা।

একাধিক সূত্র জানায় টঙ্গী, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার কতিপয় পুলিশ সদস্য এ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও পকেটমারের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশেরসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে পর কিছুদিন ছিনতাই ও চুরির ঘটনা কম ঘটলেও বর্তমানে চক্রটি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া বাস ও ট্রেনে যাতায়াতকারী ভুক্তভোগীরা অনেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ না করে তাদের গন্তব্যে চলে যান। এতে অধরাই থেকে যায় অপরাধী।

সূত্র জানায়, টঙ্গী, আবদুল্লাহপুর, হাউসবিল্ডিংয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। এ সময় সড়কের পাশে ওতপেতে থাকা ছিনতাইকারীরা ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রতিদিন চলন্ত বাসে জানালার পাশে বসা যাত্রীদের টার্গেট করে টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল। দূরপাল্লার বাসগুলো লক্ষ্য করে ছিনতাইকারী চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে জানালার পাশের সিটে বসা যাত্রীর হাতে থাকা মোবাইল নিয়ে ভোঁ দৌড় মারছে।

বাস যখন জ্যামে আটকে থাকে এবং বাস যখন স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যায় তারা ওই সময়টুকুতেই ছিনতাইয়ের কাজ চালায়। জানালা খোলা রেখে কেউ মোবাইল টিপলে তাদের হাত থেকে মোবাইল লাফ দিয়ে নিয়ে যায়। সদ্য আমার চোখের সামনে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটেছে।

চলন্ত বাসে হঠাৎ গাড়ির ভেতরে জানালার কাছে বসা সরকারি মেডিকেলের সিনিয়র স্টাফ নার্স ডেইজি সুলতানা নামে এক যাত্রীর চিৎকার ‘আমার মোবাইল, আমার মোবাইল’। এরপর চালককে বাস থামাতে বলে তড়িঘড়ি করে নেমে গেলেন ওই যাত্রী। তার পাশে থাকা আরেক যাত্রীকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল চলন্ত বাস থেকেই জানালা দিয়ে ওই যাত্রীর হাতে থাকা স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারী।

ঘটনাটি শুক্রবার বিকালে রাজধানী আজমপুর আমিন কমপ্লেক্স এলাকার। যারা সবসময় গণপরিবহনে যাতায়াত করেন, তাদের কাছে এই এলাকায় এমন ঘটনা নতুন নয়। প্রতিদিন এ রকম যাত্রীরা মোবাইল হারাচ্ছেন। অনেক সময় ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আবদুল্লাহপুর, হাউসবিল্ডং, কামারপাড়া, স্লুইসগেট, আজমপুর, রাজলক্ষ্মী, কসাইবাড়ি ও বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। 

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এ এলাকায় পুলিশের সামনেই ছিনতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছে। ছিনতাইকারী চক্রে পুরুষ ও বহু নারী সদস্য রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই তারা হাউস বিল্ডিং ও আজমপুর এবং আবদুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

এদিকে ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন লোকাল বাসের চালক ও হেলপারসহ পুলিশের সোর্সদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এদের ধরে মামলা চালান দিলেও কয়েকদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ দাবি করেন নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

ছিনতাইকারী শেল্টারদাতা কারা- এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শাহজাহান বলেন, ‘ছিনতাইকারীর নেপথ্যে কেউ নাই। ছিনতাইকারীদের হটস্পট জোনে বিশেষ টহল থাকবে। প্রতিনিয়ত দু’চারজন ছিনতাইকারী ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়ামাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা ছাড়া ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক আছে। গত কয়েকদিন উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন পকেটমার ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই নির্মূলে তৎপরতা বাড়ানো ও টহল টিমের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

ইত্তেফাক/পিও