বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ম্যাচ কমিশনারের ভুলে ডুবল সাফের ফাইনাল

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩:৩২

নারী ফুটবলে এমন চিত্র আর কেউ কি দেখেছে। ফাইনালে স্নায়ুর যুদ্ধ দেখেছেন ফুটবল দর্শক। বাংলাদেশ ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকিংয়ে ২২টি করে শট মেরেছেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। তার পরও ফাইনালে জয়ী দল চূড়ান্ত করতে পারেনি রেফারি, সাডেন ডেথ চলবে। বল বসানো ছিল। কিন্তু কে শট নেবেন সেটি নির্ধারণের আগ মুহূর্তে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করার জন্য ম্যাচ কমিশনার শ্রীলঙ্কান জয়াসুরিয়া ডিলান ডি সিলভা মাঠে ঢুকে নেপালি রেফারি অঞ্জনা রায়কে ডেকে বললেন টস হবে। 

তখন রেফারি দুই দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার এবং ভারতের অধিনায়ক নিতু লিন্ডা টসে অংশ নেন। সঙ্গে সঙ্গে টস করেন রেফারি এবং ভারত টস জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মেতে উঠে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু গিয়ে প্রতিবাদ করেন। কেন টস হলো। প্রশ্ন উঠছে আগে কেন বাংলাদেশ টস করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে উল্লাস করছিল মাঠে।

ভারতীয় ফুটবলাররা গ্যালারির দিকে দিয়ে উল্লাস করলে অনেকেই খেলোয়াড়দের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে। ভারতীয় খেলোয়াড়রা যখন বিপরীত গ্যালারিতে যায় তখন সেখান থেকে দুই একটা পানির বোতল ছুড়ে মারা হয়। ফাইনালের রেফারি এসেসর তৈয়ব হাসান বাবু মাঠে নেমে আবার রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। ভারতকে ডেকে নিয়ে বলা হয় টস হবে না। সেটা মানতে রাজি না ভারত। ভারতের খেলোয়াড়রা কোচের সঙ্গে প্রতিবাদ করে। ট্রফি বাংলাদেশকে দিয়ে দিতে বলে। এসব কথা বলে রাগ ক্ষোভ দেখিয়ে ভারত ডাগআউট ছেড়ে যায়। মাঠে রয়ে যায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। সাফের সম্পাদক আনোয়ারুল হক ফাইনালের রেফারি এসেসর তৈয়ব হাসান বাবুকে মাঠে পাঠান। টসে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণের নিয়ম নেই। পুনরায় সাডেন ডেথ চলবে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি ভারত অনূর্ধ্ব—১৯ ফুটবল দল।

বাফুফে থেকে জানানো হয় ম্যাচ কমিশনার ভুল করেছে এবং তিনি সরি বলেছেন। টস বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সেটি মেনে নেবে না বলে ভারত তখনও ডাগআউটে আসেনি। ড্রেসিং রুমে চলে যায়। আর দর্শকও গ্যলারিতে ঠাঁয় দাঁড়িয়েছিল। তারাও সিদ্ধান্ত দেখার অপেক্ষায় ছিল।  

দেশের ফুটবলে এমন ঘটনা বিরল। নারী ফুটবলে আর কখনো এমনটি দেখা যায়নি। ফাইনাল ১-১ গোলে অমিমাংশিত থাকার পর সরাসরি টাইব্রেকিংয়ে যায় ম্যাচ। এটি আগেই নির্ধারিত ছিল। প্রথম ধাপে ৫টি করে শট নেয় দুই দেশ। সবকয়টি গোল হয়েছে। সাডেন ডেথে গিয়ে আরও ৫টি করে শট নেয় দুই দেশ। সেবারও কেউ গোল মিস করেনি। সবকয়টি শট গোল হয়েছে। বাকি ছিল দুই দলের গোলরক্ষক, বাংলাদেশের গোলরক্ষক স্বর্ণ রাণী মন্ডল গোল করেন। 

এরপর ভারতের গোলরক্ষক আনিকা দেবী শট করেন, সেটিও গোল হয়। দুই দলের ২২ জন গোল করেছেন। কিন্তু ফাইনালে কে জিতল ? সেই সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় কমলাপুরের দর্শক। রেফারি তখনও ফাইনানের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য বল বসিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগী। কিন্তু মাঠের বাইরে থেকে শ্রীলঙ্কার ম্যাচ কমিশনার ডেকে নিয়ে ফাইনাল ডুবিয়ে দিলেন একটা ভুল সিদ্ধান্তে।

৯০ মিনিটের ফাইনালে ভারত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৮ মিনিটে শিবানী দেবির গোলে ভারত এগিয়ে ছিল। খেলার ৯০ মিনিট শেষ। সাফের ফাইনালে নিশ্চিত হারের পথে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব—১৯ নারী দল। কমলাপুর স্টেডিয়ামের একজন দর্শকও নড়ছে না শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় তারা।  যোগ হওয়া সময় চার মিনিটের তৃতীয় মিনিটে কানন বালার শট ভারতের অধিনায়ক নিতুল লিন্ডার মাথা ছুঁয়ে বাংলাদেশের সাগরিকার পায়ে পড়লে গোলে পরিণত করেন সাগরিকা, ১-১। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ