সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মুখরোচক স্ট্রিট ফুডে জমজমাট লক্ষ্মীবাজার

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৫

পুরান ঢাকার খাবারের নাম শুনলে জিভে জল চলে আসে। কত পদের যে সুস্বাদু খাবার, কত যে বাহারি নাম! সেই স্বাদ নিতে নানা জায়গা থেকে ভোজনপ্রেমীরা ভিড় জমান পুরান ঢাকার খাবারের দোকানগুলোতে। এই সুনাম অবশ্য অল্পদিনের নয়, দীর্ঘ ৪০০ বছরের অধিক সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা মানেই বিখ্যাত আর মুখরোচক খাবারের সমারোহ। এসব মুখরোচক খাবারকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীবাজার।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী কলেজ পর্যন্ত ভাজা-পোড়া, চিজ-বার্গার, ফ্রাই-পিৎজা, চা-কফি, জুস-চিপস, কাবাব, হরেকরকমের পিঠা আর আচারের দোকানে সন্ধ্যার পর থেকে ভিড় লেগে থাকে। সব বয়সি লোক আসছে এ খাবার খেতে। এই রাস্তায় গোটা শতেক দোকানে হরেক রকম খাবার তৈরি করা হয়। সড়কের দুই ধারেই বসা খাবারের দোকানগুলো তাদের খাবারের মূল্য ঝুলিয়ে রেখেছে।

চিকেন আইটেম তৈরি করে বিসমিল্লাহ নাবিল ফুড কর্নার, পিৎজা আইটেম তৈরি করে হট চিক, নানারকম চা নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে রাজকাচুরি। এদের কেউ কেউ ভাজা-পোড়ার পাশাপাশি ফ্রুট কর্নারও খুলেছে। ফ্রেশ জুশ, নানা ফ্লেভারের কফি দোকানও রয়েছে। খোলামেলা জায়গায় গড়ে ওঠা দোকানগুলো আশপাশে প্লাস্টিকের চেয়ার, টুল সাজিয়ে ক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা করেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিক, সাফা, রবিউল ও রাকিব লক্ষ্মীবাজারে খাবার খেতে আসেন। লক্ষ্মীবাজারের খাবারের বিশেষত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, বদ্ধঘরে আবদ্ধ না থেকে উন্মুক্ত খোলা জায়গায় বসে রেস্টুরেন্টের খাবার খাওয়ার স্বাদ পাচ্ছি। বন্ধুবান্ধব সবাই মিলে আড্ডা দিতে পারছি, এটাই লক্ষ্মীবাজারে স্ট্রিট ফুডের বিশেষত্ব। চিজ, ফ্রাইজ ও বার্গারের আইটেম নিয়ে পসরা খুলেছে ‘মামা ফুড কর্নার’। মামা ফুড কর্নারের শেফ শুভ জানান, আমাদের বার্গার, স্যান্ডউইচ, ফ্রাইয়ের আইটেমগুলো বেশি চলে। তবে ইদানীং ফিশ বার্গারের চাহিদা বেড়েছে। চিকেন ফিল ট্রিটে চিকেন চিজ, চিজ প্যাটি, বারবিকিউ ও স্মোকি বারবিকিউ, টুইন চিজ ও মিনি চিকেন বার্গার পাওয়া যায়। চিকেন সাব, চিজ সাব, বারবিকিউ সাব এই তিন রকমের স্যান্ডউইচ পাওয়া যায় সেখানে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে খাবারের স্বাদ মেটাতে আসেন। বিশেষ করে লক্ষ্মীবাজারের আশপাশে বেশকিছু প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মহানগর মহিলা কলেজ, সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট থমাস স্কুলসহ বেশকিছু ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবাসিক হল না থাকার সংকটে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখানে খাবার খেতে আসেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম