বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শ্রদ্ধায় স্মরণ

সময়ের সাহসী মানুষ ড. নীলিমা ইব্রাহিম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪৯

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও নারী জাগরণের মুক্ত চিন্তাবিদ ড. নীলিমা ইব্রাহিম। শিক্ষা, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক চর্চা, সমাজসেবা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ছিল অসামান্য অবদান – এই অবদানের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে তার ছোট মেয়ে রীতি ইব্রাহীম আহসান নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র 'অপরাজিত নীলিমা ইব্রাহিম'। গতকাল শনিবার বেইলি রোডস্থ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এটি প্রদর্শন করা হয়। ড. নীলিমা ইব্রাহিমের পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত 'শ্রদ্ধায় স্মরণে নীলিমা ইব্রাহিম' শীর্ষক অনুষ্ঠানে সমবেত হন বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা ।

ড. নীলিমা ইব্রাহিমের কর্ম ও জীবন দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তারই সহকর্মী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকরম হোসেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রীতি ইব্রাহীম আহসান ।

উল্লেখ্য, ড. নীলিমা ইব্রাহীম সমাজসংস্কার ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা অর্জন করেন ।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকরম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপকরা শহিদ হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ড. নীলিমা ইব্রাহিম বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়—এই অবস্থায় কি বাংলা বিভাগ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব, নাকি ভারত থেকে শিক্ষক আনতে হবে। তিনি সেই অবস্থা থেকে বাংলা বিভাগকে দক্ষ শিক্ষক আর শিক্ষার্থী সমৃদ্ধ করেছেন। অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকরম হোসেন জানান, 'আমরা ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে তাদের সম্মান জানাই, কিন্তু শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠার পেছনেও যে ড. নীলিমা ইব্রাহিমের অবদান আছে, আমরা সে কথা স্মরণ করি না।'

তাসমিমা হোসেন বলেন, ড. নীলিমা ইব্রাহিম বর্ণিল জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি তার লেখার মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। আর তার লেখায় নারী চরিত্রের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নের কথা বলেন। ২১ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। তার পাঁচ কন্যা। সংসারে কন্যাদের নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন, পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছেন। সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন । তার পাঁচ কন্যাই দেশের প্রতিষ্ঠিত নাম। নীলিমা ইব্রাহীমকে জানতে হলে তার সম্পর্কে পড়াশোনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

'অপরাজিত নীলিমা ইব্রাহিম' তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে

রীতি ইব্রাহীম আহসান জানান, ২০২১ সালে নীলিমা ইব্রাহিমের জন্মশতবার্ষিকীতে এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ইচ্ছা থাকলেও করোনার জন্য তা হয়ে ওঠেনি। মাকে নিয়ে তার তথ্যচিত্রটি প্রথমে বাংলা একাডেমিতে প্রদর্শন করা হয়। সেখান থেকে কিছু পরামর্শ আসে এবং তিনি তা গ্রহণ করেন, যা তথ্যচিত্রকে আরো সমৃদ্ধ করে। তিনি জানান তার মায়ের কাজ ও জীবন দর্শন, দেশের প্রতি অবদান মানুষ জানুক, এই উদ্দেশ্যেই তিনি পরিসংখ্যানবিদ হয়েও তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। এর পেছনে কোনো অর্থ উপার্জনের বিষয় নেই ।

তার জীবনচরিত অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য এই তথ্যচিত্রে দেশের বিশিষ্টজনেরা ড. নীলিমা ইব্রাহিমের জীবন, কর্ম ও সমাজসংস্কারক হিসেবে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাহমুদা আখতার। তিনি ড. নীলিমা ইব্রাহিম স্মরণে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করেন। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ছায়া কর্মকার।

ইত্তেফাক/এআই