মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

গ্রাহকের ২০ কোটি টাকা নিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬ 

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:১৯

২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়া নওগাঁর ডলফিন এনজিও‘র মালিক আব্দুর রাজ্জাকসহ ৬ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের তারাব বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকি ৫ জনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- ডলফিন এনজিও‘র মালিক ও নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৩), আব্দুল মজিদের ছেলে রিপন হোসেন (১৮), আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী সুমি (৩২), রজাকপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিন মন্ডলের ছেলে পিয়ার আলী (৪০), পিয়ার আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৩৫) এবং ইকরতারা গ্রামের মৃত লায়ের উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আতোয়ার রহমান আতা (৬০)।

র‍্যাব জানায়, ২০১৩ সালে আব্দুর রাজ্জাক ডলফিন সেভিংস অ্যান্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি এনজিও গড়ে তোলেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতিমাসে তার এনজিও‘তে ২ হাজার টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এই প্রলোভনে ওই এনজিওতে এলাকার অনেকেই বড় অঙ্কের টাকা আমানত জমা করেন।

প্রথম তিন মাস গ্রাহকেরা জমানো টাকার মুনাফা পেলেও পরবর্তী সময়ে মুনাফা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় গ্রাহকদের আমানত নিয়ে হঠাৎ সংস্থাটির পরিচালক আবদুর রাজ্জাক এনজিও’র কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তিন শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ২০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান।

আব্দুর রাজ্জাকসহ তার স্ত্রী মোছা. সুমি আক্তার, বোন মোছা. শিল্পী বেগম, রিপন এনজিও‘র সভাপতি পিয়ার আলী, ম্যানেজার আতোয়ার রহমান আতা এবং ক্যাশিয়ার রিপন এলাকার জনসাধারণের কাছ থেকে ১ লাখ টাকায় ২ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে ওই এনজিওতে ৩০০ জনের বেশি গ্রাহককে সঞ্চয় রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই র‌্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে নারায়ণগঞ্জের তারাব বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকি ৫ জনকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রাজ্জাক স্বীকার করেছেন, টাকা নিয়ে দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

নওগাঁ জেলা সমবায় অফিসার খোন্দকার মনিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের জুনে ওই সংস্থা পরিদর্শন করে ৩৮ লাখ টাকা আমানতের তথ্য পাওয়া যায়। তবে ৬ মাসের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকা কীভাবে লেনদেন হয়েছে তা জানা নেই। এ ঘটনায় একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সদর থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, র‌্যাব গ্রেপ্তার ৬ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি