বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আতঙ্কের মধ্যেই কাজে ফিরছেন ঘুমধুম সীমান্তের বাসিন্দারা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭:১৭

কয়েক সপ্তাহ ধরে বান্দরবানের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের মংডুতে থেমে থেমে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের আওয়াজ শোনা গেলেও মঙ্গলবার থেকে সীমান্তজুড়ে কোনো অস্থিরতা বা গোলাগুলির খবর পাওয়া যায়নি। সীমান্তের বাসিন্দারাও কয়েক দিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে বাড়ি ফিরে কাজকর্মে ফিরছেন। সীমান্তঘেঁষা কিছু গ্রামে এখন আতঙ্ক রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ঘুমধুম সীমান্তের পরিবেশ শান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় কোনো গোলাগুলি ও বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি তারা।

অপরদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা ও কিছু চাকমা সম্প্রদায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। মূলত মংডু শহরের আশপাশে রোহিঙ্গা বসতি বেশি। সেখানে লড়াই আরও তীব্র হলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করবেন। এরই মধ্যে বিজিবি বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করেছে।

এর আগে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিপির ঘাঁটিগুলো দখলে নিয়েছিল বিদ্রোহী আরকান আর্মি। তবে আবারও জান্তা বাহিনী অভিযান চালাতে পারে শঙ্কায় অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন তারা।

অবশ্য বিষয়টিকে বিদ্রোহীদের কৌশল হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, নতুন করে হেলিকপ্টারের টহল আর মাঝেমধ্যে গুলি ছোড়ার ঘটনায় সীমান্তের স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনেকটাই ঝুলে গেছে। কিন্তু ট্রানজিট ক্যাম্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানালেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, তুমব্রু রাইট ক্যাম্প বিজিপি থেকে দখলে নেওয়ার পর শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে আরকান আর্মি। তারপর থেকে ৫০ জনের বেশি সদস্য ক্যাম্পে পাহারায় থাকে। কিন্তু বর্তমানে আরকান আর্মির সদস্যরা গোপন অবস্থানে চলে গেছে। নেই আগের মতো দলবল নিয়ে পাহারার দৃশ্য।

কোনারপাড়া চাকমা পাড়ার বাসিন্দা উকছাইন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আরকান আর্মি তাদের স্থান পরিবর্তন করছে। বিজিপি ঘাঁটিগুলো দখলে নেওয়ার পর তারা শক্ত অবস্থানে ছিল। কিন্তু এখন দেখছি তারা সাবধানতা অবলম্বন করছে। আগে যেভাবে দলবদ্ধভাবে পাহারা দেওয়া হতো সে দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। তারা গোপন আস্তানায় চলে গেছে।

এদিকে ক্যাম্পের পাশে শূন্যরেখায় কৃষিকাজে ব্যস্ত চাষিরা জানান, আরকান আর্মি এখন গোপন আস্তানায় অবস্থান করছে। নতুন করে হেলিকপ্টার চক্কর দেওয়া আর মাঝেমধ্যে গুলি ছোড়ায় নতুন করে আতঙ্ক ভর করেছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তের বাসিন্দাদের আতঙ্ক যাচ্ছে না। আগে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী যখন ছিল, তখন তো জবাবদিহিতা ছিল। কিন্তু আরকান আর্মিদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাই আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির টহল দলের এক কমান্ডার জানান, সীমান্ত দিয়ে আর একজন রোহিঙ্গাকেও ঢুকতে দেওয়া হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি