বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পাবিপ্রবিতে ফুল দেওয়া নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:৩৮

শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন বিরুদ্ধে এক নারী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগ তুলেছেন রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সকাল সাড়ে সাতটায় প্রভাতফেরি শেষে শহিদ মিনারে ফুল দিতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের সংগঠন পাস্ট ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) ফুল দিতে আসেন। এ সময় কর্মকর্তা পরিষদ ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ফুল দিতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘক্ষণ ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, তারা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে কর্মকর্তা পরিষদের সদস্যরা তাদের শহীদ মিনারে উঠতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে কর্মকর্তা পরিষদের সদস্যরা তাদের ফুলের ডালার ব্যানার ছিঁড়ে নিয়ে যান এবং এক নারী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেন।

তবে কর্মকর্তা পরিষদের দাবি কোনো নারী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলা হয়নি বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ফুল দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি হারুনুর রশিদ ডন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের সংগঠন থাকবে একটা। সেখানে প্রশাসনের সুযোগ-সুবিধা লাভের জন্য নামসর্বস্ব একটা সংগঠন খোলা হয়েছে। এই সংগঠনের কোনো বৈধতা নাই। যেহেতু এই সংগঠনের বৈধতা নাই সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যই আমরা বাধা দিয়েছি। তবে এই কর্মকর্তাদের যেন ফুল দিতে দেওয়া না হয় আমরা এই বিষয়টি প্রশাসনকে আগেই অবগত করেছি। যদি প্রশাসন আগেই ব্যবস্থা নিতো তাহলে আমরা তাদেরকে বাধা দিতাম না।

ডিরেক্ট রিক্রুটেড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জি.এম শামসাদ ফখরুল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তাদের যেকোনো সংগঠন খোলার অধিকার আছে। কর্মকর্তা পরিষদ সংগঠনে নানা অনিয়মের কারণে আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসি। আজকে আমরা ফুল দিতে গেলে তারা আমাদের ফুলের ডালার ব্যানার ছিঁড়ে নিয়ে যায় এবং এক নারী কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রশাসনের যদি এর সুষ্ঠু বিচার না করে তাহলে আমরা শনিবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি দেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা কর্মকর্তাদের দুটি সংগঠনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। উপাচার্য মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আশা করি আগামীতে দুটি সংগঠন নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখবেন।

ইত্তেফাক/এবি