সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

খাদ্যপণ্যের জমজমাট প্রদর্শনীতে শেষ হলো দুবাই গালফ ফুড মেলা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:১৯

অভূতপূর্ব আয়োজনে বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের দর্শনার্থীদের সমাগমে ১২৭টি দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে শেষ হলো পাঁচ দিনের দুবাই গালফ ফুড মেলা ২০২৪।

১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে খাদ্য পণ্য মেলা ২০২৪ সাড়া জাগিয়েছে বিশ্ব দরবারেও। পৃথিবীজুড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বাজারজাত ও রপ্তানি করে থাকে তারা এই মেলাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

বৃহত্তর খাদ্য পণ্য প্রদর্শনীর এ মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন রয়েছে দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জা’আবিল হল ফোর-এ। এতে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তত্ত্বাবধানে দেশীয় ৪১টি প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে।

মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে দেশীয় অনেক নতুন নতুন কোম্পানি তার মধ্যে আকিজ এসেনশিয়াল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার (এক্সপোর্ট) সীমা দে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ এই মেলায় অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানির বাজারও দীর্ঘ হচ্ছে। তাই আমাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে এখানে অংশগ্রহণ করেছি। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যদেশগুলো তাদের পণ্য বাজারজাত করণে যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে এবং দেশীয় পণ্যের ব্র্যান্ড তৈরির লক্ষে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবার পণ্যের গুণগত মানের পাশাপাশি প্যাকেজিংকেও অধিকহারে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসর্স এসোসিয়েশনস (BAPA) এর পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দুবাই বাংলাদেশ কনসুলেটে ফুড মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ডিব্রিফিং এর আয়োজন করে।

ডিব্রিফিংএ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত গালফ ফুড মেলায় অংশ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছিল বাংলাদেশের ৬২টি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু মেলায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ২১ টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিতে হয়েছে। তাছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো  মেলায় বরাদ্ধ স্টলের সাইজ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে। স্টলের সাইজ ছোট হওয়ায় ক্রেতার ভিড় থাকা সত্ত্বেও জায়গা দিতে না পারায় বিদেশি কোম্পানিগুলো সেসব ক্রেতাদের ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে। এবারের মেলায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৩৬ স্কয়ার মিটার। মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা আগামী বছর থেকে স্পেস বাড়িয়ে সেখানে ৬০০ স্কয়ার মিটার জায়গা বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে  বাংলাদেশ সরকারের ব্যাবসা নীতি তুলে ধরে ব্যবসায়ীদের সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত আবু জাফর ও উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেন।

এ অনুষ্ঠানে আমিরাতে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দেরিতে আবেদন করায় দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার যথেষ্ট স্পেস দিতে পারেনি। তাছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ব্র্যান্ডিংয়েও পিছিয়ে ছিলাম। তবে এই বিষয়টি আমরা এবার ভালোভাবে আমলে নিয়েছি আগামীতে সবার অংশগ্রহণ ও ব্র্যান্ডিং নিশ্চিত করতে উদ্যোগগ্রহণ করা হবে।তিনি বলেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথেষ্ট কেয়ারিং ভূমিকা পালন করে চলেছে।

ইত্তেফাক/এসসি