কাক ও আখরোট

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৪, ০৬:৪৫

বনের ধারে একটি গাছে একটি কাক বাস করত। সে ছিল খুব বুদ্ধিমান ও পরিশ্রমী।

একদিন কাকটির খুব খিদে পেল। খাবারের খোঁজে সে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করল। কিন্তু খাওয়ার মতো কিছুই পেল না।

তারপরও সে চেষ্টা চালিয়ে গেল। হঠাৎ একটি আখরোট গাছের নিচে তার চোখ পড়ল। আনন্দে তার চোখ চক চক করে উঠল।

সে দেখতে পেল, গাছের নিচে কিছু আখরোট পড়ে আছে। সে আর দেরি না করে আখরোট খেতে গেল।

কিন্তু সে শত চেষ্টা করেও আখরোটের খোসা ভাঙতে পারল না। কারণ, আখরোটের খোসা খুব শক্ত হয়।

প্রথমে সে তার শক্ত ঠোঁট দিয়ে খোসা ভাঙতে চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না।

এরপর সে চারপাশে তাকাল—খোসা ভাঙার মতো যদি কিছু পাওয়া যায়। হঠাৎ একটু দূরে কিছু পাথর দেখতে পেল।

সে ঠোঁটে করে কয়েকটি পাথর নিয়ে এল এবং আখরোটের খোসা ভাঙার চেষ্টা করল। কিন্তু পারল না। কারণ, পাথরগুলো ছোট ছিল। সে তো আর বড় পাথর তার ঠোঁটে তুলতে পারবে না।

কিন্তু কাকটি দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে মনে মনে বলল, আমি কিছুতেই হাল ছেড়ে দেবো না।

সে অন্য উপায় খুঁজতে লাগল।

বনের ধারে একটি রাস্তা ছিল। মাঝে মাঝে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করত।

কাকটি গাড়ির চলাচল দেখছিল এবং গভীরভাবে ভাবছিল। হঠাৎ তার মাথায় একটি নতুন উপায় এল। সে খুশিতে নেচে বলল, হ্যাঁ, এবার খোসা ভাঙবেই!

সে আখরোট মুখে নিয়ে উড়ে রাস্তার কাছে গেল এবং ওপর থেকে আখরোট রাস্তার ওপর ফেলতে লাগল। এভাবে সে বেশ কয়েকটি আখরোট রাস্তার ওপর ফেলল।

কিছুক্ষণ পর একটি গাড়ি সেই রাস্তার ওপর দিয়ে চলে গেল।

আর গাড়ির চাকার নিচে পড়ে আখরোটের খোসাগুলো পটাশ পটাশ করে ভেঙে গেল; আর খোসার ভেতর থেকে তাজা, মজাদার ও পুষ্টিকর আখরোট বাদাম বেরিয়ে এল।

কাকটি সেই আখরোট সংগ্রহ করে পেট পুরে খেল। খেয়েদেয়ে সে আনন্দে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে তার বাড়ির দিকে উড়ে চলল।

শেখার বিষয় : ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন