হালদা ও কর্ণফুলীতে অতিমাত্রায় লবণাক্ততা

চট্টগ্রামে রোজার আগেই ওয়াসার পানির সংকট

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৪, ০৪:০০

রোজার আগেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ওয়াসার পানি উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগরীতে এই সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় সারা দিনই পানি মিলছে না। উঁচু এলাকায় পানির সংকট আরও প্রকট হয়েছে। 

ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, ওয়াসার পানির উৎস হালদা ও কর্ণফুলী নদী। পানির লেভেল নিচে নেমে যাওয়ায় ভাটার সময় নদী থেকে পানি নেওয়া যাচ্ছে না। আবার জোয়ারের সময় লবণাক্ততা বেড়ে যায়। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য ওয়াসার হাতে বিকল্প কোনো সোর্স নেই। এখন দৈনিক প্রায় ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন কমে গেছে। নগরীতে রেশনিং করে পানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওয়াসা মদুনাঘাটে শেখ রাসেল ও মোহরা পানি শোধনাগারের জন্য হালদা নদী থেকে এবং রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত কর্ণফুলী শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার ১ ও ২-এর জন্য কর্ণফুলী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে। কিন্তু এখন দুটি নদীতে পানির লেভেল কমে গেছে। কাপ্তাই লেকে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পানি ছাড়া হচ্ছে না। এতে জোয়ারের সময় হালদার অনেক ভেতরে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। আবার ভাটার সময় হালদা ও কর্ণফুলীতে পানির লেভেল কমে গেলে পর্যাপ্ত পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। এসব কারণে ওয়াসার পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কাপ্তাই লেকে স্বাভাবিক অবস্থায় সর্বোচ্চ পানি থাকে ১০৯ ফুট। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর কমে ৮৩ ফুটে নেমে এসেছে। লেকে পানির লেভেল কমে যাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। কাপ্তাই লেক থেকে পানি না ছাড়ার কারণে হালদায় লবণাক্ততা বেড়ে গেছে।

প্রতি বছর এই সময়ে কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। তখন ওয়াসার পানি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তারা বলছেন, এটি প্রাকৃতিক সমস্যা। বৃষ্টি না হলে লবণাক্ততা থেকে মুক্তি মিলবে না। এতে সুপেয় পানি নিয়ে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যাদের ব্যক্তিগতভাবে নলকূপ রয়েছে তারা পানির সংকট কাটাতে পারলেও যাদের নলকূপ নেই তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, জোয়ারের সময় হালদার পানিতে প্রতি লিটারে প্রায় ২ হাজার মিলিগ্রাম লবণাক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতি লিটারে ২৫০ মিলিগ্রাম লবণাক্ততা থাকলে পানের উপযোগী ধরা হয়।

ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এখন রেশনিং করে পানি সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এলাকা ভাগ করে এক দিন পরপর পানি সরবরাহ দেওয়া হবে। পানির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪৫টি গভীর নলকূপ আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে পানির উৎপাদন ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।’

নদীর পানিতে লবণাক্ততা নিয়ে জানতে চাইলে ওয়াসা পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, লবণাক্ততার মাত্রাটা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। লবণাক্ততা দূরীকরণে শোধনাগারের জন্য নদীর যেখান থেকে পানি সংগ্রহ করা হয় সেখানে ‘রিভার্জ অসনোসিস সিস্টেম’ বসানো যেতে পারে। তখন গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করা পানিতে লবণের মাত্রা থাকবে না।

ইত্তেফাক/এমএএম