রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জাবিতে ধর্ষণকাণ্ড: ৫ দাবিতে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৪

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে 'নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের' ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুপুর ১২টায় তাদের অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্ত করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা এবং র‌্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে অবরোধ চলাকালে নতুন প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও আসেননি।

আবরোধকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, তাদের তদন্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার সিন্ডিকেটে উত্থাপন করা হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ওই তদন্ত প্রতিবেদনে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেট যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেনি। উপরন্তু তারা বলেছেন, প্রক্টর এবং প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণস্বরূপ কোনো কিছু পাননি। এটা হতেই পারে না। কারণ, আমরা তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি, উপস্থাপন করেছি। কিন্তু তারা যেহেতু বলেছেন, তথ্যপ্রমাণ পাননি, এটা দুরভিসন্ধিমূলক।'

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, 'অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদিচ্ছা দেখতে পারেনি। উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি পত্র লেখানোর অভিযোগ পেশ করা হলেও সিন্ডিকেটে তা এড়িয়ে যান। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে বাধ্য করার কথা থাকলেও প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এমনকি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিষয়েও প্রশাসন নির্বিকার।'

'নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের' সংগঠক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলী বলেন, 'উপাচার্য সময় চেয়েছিলেন। তিনি পূর্বে কথা না রাখতে পারলেও আমরা সময় দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন হয়- এমন কোনো কর্মসূচি দেয়নি। তবে উপাচার্য আবারো কথা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ তাই উপাচার্যের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না। এতকিছুর পরেও সিন্ডিকেটে প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'

এর আগে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের সংগঠক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলী অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

ইত্তেফাক/এআই