নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুর খননের উদ্দেশ্যে ফসলি জমিতে সেচকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী ২ ভাই। এতে পানির অভাবে ফেটে চৌচির বোরো ধানের খেত। ব্যাহত হচ্ছে খেতে থাকা অপরিপক্ব ভুট্টা ও রসুনের ফলন। স্থানীয় কৃষকের প্রতিবাদের মুখে ও ইউএনওর হস্তক্ষেপে ফের চালু করা হয়েছে কাজ।
জানা গেছে, গুরুদাসপুরের বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী উত্তরপাড়া বিলের জমিতে বছরজুড়েই ফসল উৎপন্ন হয়। জমিতে নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা দিতে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে পানির লাইন নির্মাণ করে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অথচ একই গ্রামের মৃত সদর উদ্দিন মণ্ডলের ২ প্রভাবশালী ছেলে আব্দুল হাকিম ও আব্দুল মমিন নিজেদের ১০ বিঘাসহ পাশের আরও ১০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফসলি জমিতে বন্ধ ছিল সেচকাজ। পানির অভাবে লালচে হয়ে ওঠে কাচা ধানের চারা।
তবে স্থানীয় কয়েকশ কৃষকের প্রতিবাদের মুখে তিন ফসলি এসব জমিতে পুকুর খননের প্রস্তুতি ভণ্ডুল করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার। শুক্রবার (২৩ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে তিনি সরেজমিনে ফসলের ক্ষেত্রে গিয়ে বোরো ধান, ভুট্টা, ধনিয়া এবং রসুনের জমিতে সেচকাজ চালু করেন। তাৎক্ষণিক পাশের বোরো খেতে পানি দেওয়া হয়।
কুমারখালী মাঠে জমি থাকা অন্তত ২০জন কৃষক ইত্তেফাককে বলেন, কুমারখালী উত্তরপাড়া বিলে অন্তত ২ হাজার বিঘা ফসলি জমি রয়েছে। সেসব জমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, রসুন, ধনিয়াসহ সব ধরণের ফসলের চাষাবাদ করা হয়। প্রভাবশালীরা বিলের মুখে ২০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করলে আশেপাশের অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষক। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি কৃষকদের মাঠে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
পুকুর খননের প্রস্তুতি নেওয়া আব্দুল হাকিম ও আব্দুল মমিন ইত্তেফাককে জানান, নিজেদের লিজ দেওয়া দশ বিঘা জমিসহ পাশের আরো দশ বিঘা জমিতে তারা পুকুর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ কারণে ফসলের ক্ষেতে সেচকাজ বন্ধ করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার ইত্তেফাককে জানান, কুমারখালী বিলের বোরো খেতে সেচকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন। খবর পেয়ে তিনি মাঠে গিয়ে সেচকাজ চালু করে দিয়েছেন। একইসাথে তিন ফসলি এসব জমিতে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
