মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শব্দদূষণ রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৭:৪৫

শব্দদূষণ রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতাবর্তমান বিশ্বে শব্দদূষণকে নীরব ঘাতক হিসেবে ধরা হয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ, যা রীতিমতো দুশ্চিন্তার বিষয়। প্রতিদিন আমরা নানা কারণে-অকারণে শব্দদূষণ করে থাকি, যা আমাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর। গাড়ির হর্ন, কলকারখানার শব্দ, মাইকের শব্দ, খোলা জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠান, কনসার্ট, সভা-সমাবেশ, মেলা, যাত্রাগান ইত্যাদির মাধ্যমে শব্দদূষণ বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবল শব্দে কথা বলে। ৭০ ডেসিবল পর্যন্ত মানুষের কান গ্রহণ করতে পারে এবং ৮০ ডেসিবলের ওপর গেলেই তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দেশে ব্যস্ত সড়কগুলোতে কনস্ট্রাকশনের কাজ ও গাড়ির হর্নের কারণে যে শব্দ হয়, তা অধিকাংশ সময়ে ৮০ ডেসিবলের ওপর  থাকে।

বিধিমালা অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাত নয়টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল এবং দিনের অন্য সময়ে ৫৫ ডেসিবল অতিক্রম করতে পারবে না। বাণিজ্যিক এলাকায় তা যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ ডেসিবল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় বিপরীত চিত্র। আবাসিক এলাকা হোক কিংবা বাণিজ্যিক এলাকা, সবখানেই চলে ইচ্ছেমতো শব্দদূষণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস-আদালত কোনো স্থানেই কার্যকর হয় না কোনো বিধিমালা, আইন-কানুন! চালকদের খামখেয়ালি ও অসচেতনতার ফলে শব্দদূষণ বাড়ছে, সেইসঙ্গে বাড়ছে মানুষের কানের নানান জটিল রোগ। কম বয়সে বধির হয়ে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। আর এতে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরাও। আপনার হর্ন, আপনাকেও বধির করতে পারে। এটাও প্রতিটি চালকের মাথায় রাখা উচিত।

অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাভাবিক কার্যকলাপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শব্দদূষণের কারণে দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, কাজে অমনোযোগ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাতসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। আচরণে অস্বাভাবিকতা ও মানসিক উত্তেজনা দেখা যেতে পারে। শব্দদূষণের কারণে শিশুদের মানসিক বিকাশে বাধা তৈরি হবার শঙ্কা বেড়ে যায়।

শব্দদূষণ হ্রাস করতে হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চলমান আইন কার্যকর করতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে। শব্দদূষণে দোষী হিসেবে প্রমাণিত হলে প্রথম অপরাধের জন্য এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা দু ধরনের দণ্ডই প্রদান করার বিধান রয়েছে। দ্বিতীয় বার একই অপরাধ করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। প্রয়োজনে এই আইন আরো কঠোর করতে হবে। পাশাপাশি চালক ও সমাজের মানুষদের সবাইকে শব্দদূষণ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শব্দদূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতার লক্ষ্যে কার্যক্রম আরো বাড়াতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে শব্দদূষণ রোধ করি, সুন্দর জীবন উপভোগ করি।

লেখক :শিক্ষার্থী, পদ্মা সরকারি কলেজ, দোহার, ঢাকা

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন