শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০
The Daily Ittefaq

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৬ জনের মৃত্যু

পল্লী বিদ্যুতের তিন কর্মকর্তা বরখাস্ত, এক কর্মচারী চাকরিচ্যুত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩০

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ী গ্রামে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ বি এম মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

সাময়িক বরখাস্থ কর্মকর্তারা হলেন, পূর্ব গোয়ালবাড়ী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা পল্লী বিদ্যুতের বড়লেখা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক সোহেল রানা চৌধুরী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল হুদা ও জুড়ী কার্যালয়ের ইনচার্জ রেজাউল করিম তালুকদার। এর মধ্যে সোহেল রানা চৌধুরীকে পবিসের সিলেটে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়, আশরাফুল হুদাকে কুমিল্লার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং রেজাউলকে বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মচারী হলেন, শিক্ষানবিশ লাইনম্যান মো. আশিক।

মহাব্যবস্থাপক এ বি এম মিজানুর রহমান জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক একরামুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। গত ১ এপ্রিল তা কার্যকর হয়েছে।

এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, এর আগে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আরইবির পক্ষ থেকে প্রধান প্রকৌশলী বিশ্বনাথ শিকদারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান আরইবির প্রধান প্রকৌশলী বিশ্বনাথ শিকদার বলেন, ঘটনাস্থলে দুটি বিদ্যুৎ খুঁটির দূরত্ব বেশি। প্রায় দুই বছর আগে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন সেখানে নতুন করে একটি খুঁটি স্থাপন করতে যান। কিন্তু জমির মালিকের আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি। পরে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা লোকজন বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। এতে দায়িত্বে তাদের অবহেলা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, নিজের জমি না থাকায় পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ী এলাকার রহমত আলীর জায়গায় ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বাক-প্রতিবন্ধি ফয়জুর রহমান। এ ঘরের ওপর দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের পল্লী বিদ্যুত সমিতির (পবিস) লাইন চলে গেছে। গত ২৬ মার্চ ভোরে ঝড়ে এ লাইনে আগুন ধরে এবং তার ছিঁড়ে বসত ঘরের চালে পড়ে। এতে বিদ্যুায়িত হয়ে ঘরের ভেতরে ফয়জুর রহমানসহ পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় ঘর থেকে তারা ৫ জনের লাশ ও ১ জনকে দগ্ধ অবস্থায় বের করে। দগ্ধকে প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারী ইনষ্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

এদিকে দুর্ঘটনার পর মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুস সালাম চৌধুরীকে প্রধান করে তিন মদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুস সালাম চৌধুরী বলেন, তদন্তের সময়বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি