বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

২৭ বছর পর বাড়ি ফিরলেন শাহীদা, দেখা পেলেন না বাবা-মায়ের

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:১৪

ঢাকার উত্তরা থেকে ৭ বছর বয়সে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার শাহীদা। এরপর পেরিয়ে যায় ২৭টি বছর। নিখোঁজ হওয়ার এত বছর পর নিজ উদ্যোগে ফিরে পেয়েছেন পরিবারকে। 

১৪ এপ্রিল স্বামী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এসেছেন বাবা-মার বাড়ি। তবে তার বাবা-মা বেঁচে নেই। এদিকে নিখোঁজের প্রায় তিন দশক পর নিজ গ্রামে ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শাহীদাকে একপলক দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, শাহীদা আক্তার বকশীগঞ্জ দিকপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম খলিল ও ছাবেদা বেগম দম্পতির মেয়ে। তার বাবা ইব্রাহীম খলিল ১৯৯৭ সালে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক ছেলেকে নিয়ে পাড়ি জমায় রাজধানী ঢাকায়। ঠাঁই হয় ঢাকার উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে। সেখানে তার সেজো মেয়ে শাহীদা বেগমও জীবিকার তাগিদে লাকড়ি সংগ্রহের কাজ করতেন। একদিন লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে হারিয়ে যান সাত বছরের শাহীদা। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি তাকে। এরই মধ্যে ঘটে গেছে শাহীদার জীবনে নানান ঘটনা। প্রথমে কুমিল্লা পরে নারাছুগঞ্জে এক ফায়ারকর্মীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ পান ছোট্ট শাহীদা। সেই থেকে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চলে তার জীবন। গাজীপুরের কালীগঞ্জের রাজমিস্ত্রি সেলিম মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শাহীদার। এই অবস্থায় কেটে গেছে শাহীদার জীবনের ২৭ বছর।

শাহীদা বেগম বারবার তার নিজ ভূমিতে ফেরার চেষ্টা করলেও ঠিকানা ও কারো পরিচয় না জানার কারণে ফেরা সম্ভব হয়নি। তবে নিজ গ্রাম দিকপাড়া ও থানা বকশীগঞ্জ মুখস্থ থাকায় সেই ভরসা নিয়েই ১৪ এপ্রিল ঢাকা থেকে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে রওনা দেন বকশীগঞ্জের উদ্দেশ্যে। বকশীগঞ্জ শহরে পৌঁছে বিভিন্ন মানুষের সাহায্য নিয়ে খুঁজে বের করেন দিকপাড়া গ্রাম। অবশেষে বাড়ি ফিরলেও বাবা-মার সঙ্গে দেখা হলো না তার। বাবা ইব্রাহিম খলিল ও মা ছাবেদা বেগম দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন চার বছর আগে। খবর পেয়ে পাশের গ্রাম বোলাকী পাড়া থেকে হারিয়ে যাওয়া বোনকে দেখতে ছুটে আসেন বড় বোন খালেদা বেগম। নিজ বাড়িতে কেউ না থাকায় খালেদার বাড়িতে অবস্থান নেন হারিয়ে যাওয়া শাহীদা। বড় বোন খালেদা বেগম বলেন, ‘আমরা এই বোনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। আবার তার সঙ্গে দেখা হবে, কথা হবে, ভাবতেই পারিনি।’ বাড়ি ফেরা শাহীদা বেগম বলেন, ‘জীবনে কল্পনা করিনি আমি নতুন করে আমার বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনকে খুঁজে পাব। ২৭ বছর পর ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজনকে কাছে পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে বাবা-মাকে জীবিত দেখতে পেলাম না, আফসোস থেকে গেল।’

ইত্তেফাক/পিও