মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

টাইপ টু ডায়বেটিসের সঙ্গে রয়েছে ঘুমের সম্পর্ক

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ২৩:০১

অনেকেরই রয়েছে ঘুম না হওয়ার সমস্যা। সম্প্রতি ইউকে বায়োব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নতুন এক তথ্য দিয়েছেন। বৃহৎ এই বায়োম্যাডিকেল ডাটাবেজে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য বহু কাজ খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদের এই নতুন গবেষণা জানাচ্ছে রাতে ছয় ঘণ্টার কম ঘুম হয় যাদের তাদের টাইপ ২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি থাকে বেশি।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গবেষকরা নানা মানুষের স্বাস্থ্যের ফলাফল অনুসরণ করে ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে সূক্ষ্মভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঘুমের সময়কাল এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্পর্ক দেখার একটি প্রচেষ্টা আগে থেকেই ছিল। গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে স্বল্প ঘুমের প্রভাব কমিয়ে দেয় কিনা। মূলত এটিই ছিল প্রাথমিক বিন্দু।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা পুরো দিনের সময়ে কতটা ঘুমান। সাত থেকে আট ঘণ্টা গড় হিসেব এবং এই সময়কালকে স্বাভাবিক ঘুম বলা হয়। স্বল্প ঘুমের সময়কে তিন ভাগ অর্থাৎ হালকা (ছয় ঘণ্টা), মাঝারি (পাঁচ ঘণ্টা) এবং চরম (তিন থেকে চার ঘণ্টা) করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহনকারীদের ডায়েট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। এসব মিলে ঘুমের ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রায় ৩.২ শতাংশ অংশগ্রহণকারীদের ফলো-আপ সময়কালে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিসের কম ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু অনেকে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলেও দিনে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমিয়েছিল। এ ধরনের মানুষদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি স্বাভাবিক ঘুমের শ্রেণীর লোকদের তুলনায় বেশি বলে দেখা গেছে গবেষণায়। পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সময়ের সাথে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ১৬ শতাংশ বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো লোকদের তুলনায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘুমানোর ঝুঁকি ৪১ শতাংশ বেশি।  

কিন্তু কারণ কি?
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একজনের শরীর ইনসুলিন নামক হরমোনের প্রভাব ধ্বংস করে দেয়। তা ধীরে ধীরে অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। মনে রাখা জরুরি, ইনসুলিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদের রক্তে গ্লুকোজ (চিনি) নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা যে খাবার খাই তা থেকে ইনসুলিন আসে এবং এটি সারা শরীরের কোষে স্থানান্তর করতে সহায়তা করে। কম ঘুমালে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি হতে পারে এমনটি জানা গেলেও এর পেছনে অন্য কারণগুলো এখনো অজানা। তবে পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম বঞ্চিত ব্যক্তিদের শরীরে  প্রায়শই ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের বৃদ্ধি দেখা যায়। এ ধরনের উপাদান ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অর্থাৎ শরীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করতে লড়াই করে, এবং তাই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অনিয়মিত ঘুম কিংবা স্বাভাবিক ঘুমের সাইকেল যাদের কম তাদের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে, যা সার্কাডিয়ান রিদম নামে পরিচিত। এই মেডিক্যাল কন্ডিশন কর্টিসল, গ্লুকাগন এবং গ্রোথ হরমোনের মতো হরমোন নিঃসরণে কাজ করে। উল্লেখ্য, এ ধরনের হরমোনগুলি সারাদিন শরীরের পরিবর্তিত শক্তির চাহিদা মেটাতে নিঃসৃত হয় এবং সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের  ভারসাম্য বজায় রাখে।

ভালো ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এজন্যই জরুরি
পর্যাপ্ত ঘুম স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক এই গবেষণাও বলছে, পর্যাপ্ত ঘুম ও সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয় টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে। গবেষকরা স্বীকার করেছেন, পর্যাপ্ত ঘুম সবসময় সম্ভব নয় এবং দিনের বেলা ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে স্বল্প ঘুমের সম্ভাব্য প্রভাবগুলিকে কিছুটা হলেও কমিয়ে দিতে পারে। আসলে ব্যায়াম রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উন্নত করতে পারে।

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট

 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন