মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জামালপুরে রাতের আঁধারে সরকারি জমির মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রির অভিযোগ 

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:৪৮

জামালপুরে রাতের আঁধারে সরকারি ফসলি জমির মাটি কেটে স্থানীয় ইট ভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, সদর উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে সাউনিয়া মৌজার নিরখাল বিলে মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত চলে মাটিকাটা। সরকারি খাস ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে পুকুর খনন করে সেই মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় এক শ্রেণির ভূমিখেকোরা। বিলপাড় থেকে প্রতিরাতে ১০ থেকে ১২টি মাহেন্দ্র গাড়ি দিয়ে ইট ভাটায় মাটি নেওয়ার ফলে প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

২১ এপ্রিল রোববার রাতে সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নে সাউনিয়া মৌজার নিরখাল বিলে বিআর এস ১ নম্বর খতিয়ানভূক্ত ১৪০১ নম্বর দাগে সরকারি খাস ফসলি জমির মাটি তিতপল্লা সাইতেনিপাড়ার বাসিন্দা মৃত জয়েনদ্দিনের ছেলে মুকসেদ আলী ও মোতালেব গংরা প্রতিদিন সন্ধ্যা রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত সময়ে ভেকু মেশিন দিয়ে ৩টি পুকুর খনন করে ট্রাকে তোলে সেই মাটি বিক্রি করছেন নারিকেলী গহেরপাড়া স্থানীয় আলফা ইট ভাটায়। 

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি খাস জমিতে পুকুর খনন করায় বর্ষার মৌসুমে পুকুরের চারদিকে পাড় ভেঙে অন্য কৃষকদের ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি আদেশ অমান্য করে ভূমিখেকোরা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করছে ইট ভাটায়। প্রভাবশালী ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন নিরব থাকা জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। 

স্থানীয়রা বলেন, কোনো অশুভ শক্তির জোরে সরকারি ফসলি খাস জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করে দিনের পর দিন ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করছে চক্রটি।
  
মুকসেদ আলী ও মোতালেব হোসেনের কাছে সরকারি খাস ফসলি জমিতে পুকুর খননের বিষয় জানতে চাইলে বলেন,৭০ শতাংশ জমি আমরা ২০১৬ সালে সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছি। তাই ওই জায়গাতে মাটি কেটে মাছ চাষ করার জন্য পুকুর খনন করছি।
 
শাহাবাজপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিবর রহমান কাছে বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করেছি।

জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফ বলেন, আমি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরিফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও