সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মামলা তুলে নিতে হুমকি 

স্ত্রীর করা যৌতুকের মামলায় স্বামী কারাগারে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:২৫

দফায় দফায় যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতনের পর গর্ভের ভ্রণ নষ্ট করেছেন অভিযুক্ত স্বামী জাহিদুল ইসলাম (৪৩)। এরপর নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে (১৯) ঘর ছাড়া করার পর জাল দলিলে বাড়ির ভিটা দখলের অভিযোগও রয়েছে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সবশেষ স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুকের মামলায় সোমবার জামিন নিতে গেলে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীদের হুমকিও দিচ্ছেন এই প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজন। তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লার মৃত দশরত আলীর ছেলে। জাহিদ গুরুদাসপুরের এমবিপি ব্রিকস নামের ইটভাটার মালিক। 

গত সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্বামীর নির্যাতনের শিকার ওই নারী ও তার মা। নির্যাতীত নারীর মা অভিযোগ করেন, বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও প্রায় দুই বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জাহিদুল। বিষয়টি তিনি মেনে নেননি। কিন্তু জাহিদ বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে ঘটা করে তার মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে চাঁচকৈড় প্রফেসর পাড়ার একটি ভাড়া বাড়িতেই তারা থাকতেন। 

তিনি বলেন, কষ্টে উপার্জিত টাকায় গত বছর চাঁচকৈড় মৌজার আরএস ১৯৫৪ নম্বর এবং প্রস্তাবিত ৯৫৫৮ নম্বর খতিয়ান ভুক্ত আরএস ১২৬১ ও ২৬৯২ নম্বর দাগের ৫ শতাংশ জমি মেয়ের নামে কিনেছেন স্থানীয় চিকিৎসক বিপুল কুমার দামের কাছ থেকে। মূলত ওই জমিটি নিজের নামে লিখে নিতে মেয়েকে চাপ দিচ্ছিলেন জামাই জাহিদুল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এসব ঘটনায় থানায় একাধিকবার অভিযোগও দিয়েছেন তারা। সবশেষ ১৯৮৬ সালের তারিখ দেখিয়ে একটি জাল দলিল করে ওই জমি নিজের হস্তগত করেছেন জাহিদুল। প্রভাবখাটিয়ে ওই জমি থেকে তাদের বিতারিত করা হয়েছে। মেয়ের সংসার আর নিজেদের জমি ফেরত চান তিনি।

নির্যাতনের শিকার নারী অভিযোগ করেন, ওই জমিটি স্বামী জাহিদুলের নামে লিখে দিতে রাজি ছিলেন না তিনি। এ কারণে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে তাকে। তবুও তিনি স্বামীর ঘরে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ছয়মাস আগে পেটের ওপর আঘাত করে চারমাস বয়সি গর্ভের ভ্রণ নষ্ট করেছেন স্বামী জাহিদুল। এরপরই তিনি বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলাতেই সোমবার স্বামী জাহিদুল ইসলাম কারাগারে গেছেন। এখন বিভিন্নভাবে জাহিদুলের লোকজন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। তিনি আইনি সহায়তা দাবি করেছেন।

ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জাহিদুল কারাগারে থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে গুরুদাসপুরের কাছিকাটা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/পিও