বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) দুই বিভাগ থেকে পিএইচডি'র জন্য ডাক পেয়েছেন বুয়েটশিক্ষক বিজয় সিকদার। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে প্রথমস্থানে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে একটি অফার পাওয়ার স্বপ্ন দেখে লক্ষ-কোটি তরুণ, সেখানে একাই দুই অফার লেটার পেয়েছেন তিনি।
একেবারে ছোটবেলা গ্রামে কাটলেও শৈশব কাটিয়েছেন পুরান ঢাকায়। এরপর সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলে পড়েন বিজয়। কলেজ ছিল নটরডেম। এরপর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ৫৯তম স্থান অধিকার করেন আর ভর্তি হন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বা তড়িৎ ও যন্ত্রকৌশল বিভাগে। ২০১৯ সালে সিজিপিএ ৩.৯৫ নিয়ে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেন। ডিন'স লিস্ট অ্যাওয়ার্ডসহ আট সেমিস্টারেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিট স্কলারশিপ পেয়েছিলেন বিজয়। এরপর মাস্টার্স চলাকালীন সময়ে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের মার্চে বুয়েটে নিজ বিভাগেই লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।
অসম্ভব মেধাবী এই তরুণ সম্প্রতি এমআইটির ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডির সুযোগ পেয়েছেন। এর মাত্র কয়েকদিন পরেই এমআইটির আরেক ডিপার্টমেন্টে, ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডির অফার এসেছে। বিজয় বলেন, 'এমআইটি ড্রিম স্কুল। আমি পিএইচডি'র আবেদন করেছিলাম। ভোরবেলায় যখন ইমেইলে এই অফার লেটার দেখলাম, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।'
তিনি জানান, তার গবেষণাকাজের অভিজ্ঞতাই তাকে অন্যদের থেকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছিল। তিনি দেশে বসেই এমআইটি, ইয়েলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অগ্রজদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের রিসার্চ কালচারের ব্যাপারে তিনি মনে করেন, 'নিজের ডিপার্টমেন্টে রিসার্চের সুযোগ না পেলেও অন্য ডিপার্টমেন্ট কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারো সাথে রিসার্চ করার চেষ্টা করা উচিত।'
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সাজানো রিকমেন্ডেশন লেটার, স্টেটমেন্ট অব পারপাস এবং ভালো সিজিপিএ আর রিসার্চের উপরে গুরুত্ব দেন তিনি।

