মাদারগঞ্জে শতবর্ষী সমবায় সমিতির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০০:০৭

জরাজীর্ণ ভবন, তাতে নেই কোনো আসবাবপত্র। সব দরজা খোলা ও ভাঙা। ভেতরে অফিসের কার্যক্রম চলার পরিবর্তে ছাগলের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে, এই ভবনে সচরাচর কোনো মানুষের পা পড়ে না। কিন্তু এটি একটি সমবায় সমিতির কার্যালয়, যার নাম মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় বহুমুখি সমবায় সমিতি লিমিটেড। ভবনের গায়ে একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে, সেখানে সমিতির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৮৪ উল্লেখ করা আছে। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের এই সমিতিটি শতবর্ষী। এর প্রতিষ্ঠাকাল ২৭ মে ১৯২৩। তবে সেখানে অন্যকোনো তথ্য পাওয়ার কিংবা তথ্যপ্রদানকারী কারোর সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ হলো না।

অথচ এই অবস্থায়ও এই প্রতিষ্ঠানটির নাম ভাঙিয়ে আরও ৩২টি সমবায় সমিতি থেকে প্রতিমাসে ৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। মূলত যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হলেন মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সুহেল। দুজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তবে রায়হান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অন্যদিকে কামরুল মাদারগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর। তারা দুইজন প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটির পদে বসে থেকে সম্পদ আত্মসাতের পায়তারা করছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় গত শনিবার এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন এলাকাবাসী। মাদারগঞ্জ ছায়ানীড় সংঘের সভাপতি আইয়ুব আলী খান, বালিজুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শিবলুল বারী রাজু , মহসীন আলী, মাজেদ খান, স্বপ্না পারভীন প্রমুখ এতে অংশ নেন। তবে রায়হান ও সুহেল চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

চাঁদা আদায়ের তালিকা

এদিকে মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চাঁদা তোলার একটি তালিকা এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, 'সুধীজন বৈঠক' ও সমস্যা সমাধানের রেজ্যুলেশন তৈরি করে ওই চাঁদা তোলা হয়। উপজেলার ৩২টি সমবায় সমিতি থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা চাঁদা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ আছে। এরমধ্যে বড় সমিতি থেকে ১ লাখ, মাঝারি সমিতি থেকে ৫০ হাজার, ছোট সমিতি থেকে ২০ হাজার বা ১০ হাজার অথবা ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হতো বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সমিতির কার্যালয়ের ভেতরের অবস্থা

অভিযোগের ব্যাপারে মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান সুহেলের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, চার লাখ টাকা চাঁদা তোলার ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। তবে আামাদের কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির নামে কিছু টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে, সেটি চার লাখ নয়।

কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি রায়হান রহমাতুল্লাহ রিমুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির ব্যাপারে এধরনের অভিযোগ আমার জানা ছিল না৷ তারা চাঁদা আদায় করতে পারেন না। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

ইত্তেফাক/এসটিএম