সৌভাগ্যের প্রতীক ক্যাসিয়া জাভানিকায় মুগ্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ১৭:৩৭

লালমাই পাহাড়ের উঁচু নিচু টিলা আর পাহাড়ের কোলে অবস্থিত লালমাটির ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। যা বছর জুড়েই জারুল, সোনালু, শিমুল, কাশফুল, কৃষ্ণচূড়া, কুর্চিসহ নানা বর্ণের ফুলে মুগ্ধতা ছড়ায়। 

তবে এবারই প্রথমবারের মতো সৌভাগ্য ও বিজয়ের প্রতীক ক্যাসিয়া জাভানিকা তার লালচে গোলাপি ও সাদা বর্ণের পাপড়িতে বর্ণিল করে তুলেছে ক্যাম্পাস।

বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটক পার হয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই চোখ পড়বে এই ফুলের দিকে। ক্যাসিয়া জাভানিকার ছড়ানো ছিটানো পাতা দেখলে মনে হবে যেন কেউ ছাতা ধরে গোলাপি-সাদা বর্ণের ফুল নিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে।

গ্রীষ্মের শুরুতে ফোঁটা এই ফুলটি বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ছাড়াও ইন্দোনেশিয়াসহ উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় ফোটে। গাছ দ্রুত বর্ধনশীল, মাঝারি আকৃতির, ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফুল প্রায় ৩ সেমি চওড়া, সুগন্ধিযুক্ত পাপড়ি ও পুংকেশর অসমান। বাসি ও তাজা ফুল মিলে চমৎকার বর্ণ বৈচিত্র তৈরি করে। ফল গোলাকার, লম্বা, গাঢ়-ধূসর ও শক্ত। বংশবৃদ্ধি বীজের মাধ্যমে।

ফুলটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানা যায়, ক্যাসিয়া জাভানিকা থাইল্যান্ডের নয়টি শুভ বৃক্ষের মধ্যে একটি এবং বলা হয় যে এটি সৌভাগ্য নিয়ে আসে, অব্যাহত উচ্চ পদ নিশ্চিত করে এবং বিজয়ের সামর্থ্য রাখে।

তবে এতদিন এর কোনো বাংলা নাম না থাকলেও অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এর নাম রাখেন লাল সোনাইল। পোশাকি নাম পিংক ক্যাশিয়া বা পিংক শাওয়ার এবং বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া জাভানিকা।

এই ফুলের রুপে মুগ্ধ হয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুলতানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এবছর নানা বর্ণের ফুল ফুটেছে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বর্ণিল এবং শোভাবর্ধনকারী মনে হচ্ছে ক্যাসিয়া জাভানিকাকে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক পার হলে এই ফুলগুলো যে কারো নজর কেড়ে নিবে। 

ক্যাম্পাসে এই বৃক্ষ রোপণের সাথে যুক্ত থাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসির প্লাটুন কমান্ডার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট (বিএনসিসিও) অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, বিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রতিবছরই বৃক্ষ রোপণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে প্লাটুন কমান্ডার অধ্যাপক ড. মোসা. শামসুন্নাহার ম্যাডাম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গাছের চারাগুলো সংগ্রহ করেন। এরপর গাছটি শোভাবর্ধনকারী হওয়ায় আমরা গেইটের পাশে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেই। 

তিনি আরও বলেন, খুবই অল্প সময়ের মধ্যে গাছগুলোর বিকশিত হওয়া এবং ফুল দেওয়ায় আমরা আজ অনেক বেশি আনন্দিত। এধরণের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

ইত্তেফাক/এআই