সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অধ্যক্ষকে গুলি করে হত্যার হুমকি, নীরব প্রশাসন

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ২২:৩৬

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী নাসিরাবাদ কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শফিককে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা আখেরুল ইমাম সোহাগের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আখেরুল ইমাম ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। 

এদিকে গত ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হলেও বুধবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থানা থেকে পুলিশ কিংবা প্রশাসন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি বলে জানান অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক। 


 মঙ্গলবার (৭ মে) ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ তার ফেসবুকে পোস্ট করে এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে পোস্টে অধ্যক্ষ তার কক্ষের সিসিটিভির একটি ফুটেজের ভিডিও শেয়ার করেন। 

অধ্যক্ষের এমন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পোস্টে কলেজ অধ্যক্ষ তাকে হুমকি দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আখেরুল ইমাম (সোহাগ) কে অভিযুক্ত করেছেন। গত ৩০ এপ্রিল এ হুমকি দেওয়া হয় বলে অধ্যক্ষ জানান। 

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সোহাগ ও ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক। ছবি: ইত্তেফাক

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ আহমেদ শফিক জানান, নাসিরাবাদ কলেজের পরিচালনা কমিটি নিয়ে সম্প্রতি কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ করে। গত ৩০ এপ্রিল আখেরুল ইমাম সোহাগ আমার কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর আমি কি ব্যবস্থা নিয়েছি, তা জানতে চান। এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে মেরে পেলার হুমকি দেওয়া হয়। 

ভুক্তভোগীর ফেসবুক স্ট্যাটাস ও হত্যার ভিডিও। ছবি: ফেসবুক

অধ্যক্ষ অভিযোগ করে আরও বলেন, আখেরুল ইমাম সোহাগ নাসিরবাদ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস। সোহাগ মাঝে মাঝেই কলেজের বিভিন্ন বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ মে আখেরুল আমাকে অসম্মানজনক কথা বলেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। ওই ঘটনাতেও আমি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আখেরুল ইমাম বলেন, গত ৩০ এপ্রিল আমি একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর কলেজের ফিস কমানোর অনুরোধ করতে অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছিলাম। গিয়ে প্রথমেই দেখি অধ্যক্ষ একজন সাবেক ছাত্রদল নেতার সঙ্গে কথা বলছেন। 

হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অধ্যক্ষকে হুমকি দেননি। অধ্যক্ষ ভিডিওর খণ্ডিত অংশ ফেসবুকে দিয়েছেন। 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাঈন উদ্দিন বলেন, অধ্যক্ষের জিডি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। 

ইত্তেফাক/পিও