বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মানবতার সেবক ডা. আতিকুর রহমান

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৪:৩০

যার মানবিক ব্যবহারের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা ও সততায় মুগ্ধ হতে হয়। তিনি উদার মানবদরদি সামাজিক মানুষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তার মনের দরজাটা যেমন উদার, খোলামেলা, তেমনি অন্দর-সদর দরজাও উন্মুক্ত সবার আনাগোনায়। তিনি যেন পূর্ণিমার পূর্ণ জোছনার আলোর মতো চিকিত্সাসেবায় আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একজন চিকিত্সক মানুষকে সেবা করার যত বেশি সুযোগ পান, অন্য পেশাজীবীরা তা পান না। তাই চিকিৎসককে আগে ভালো মানুষ হতে হয়, তাহলেই তিনি হতে পারেন আদর্শিক, মানবিক একজন চিকিৎসক।

একজন চিকিৎসকের অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে রোগীকে সম্মান করা। কোনোরূপ তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করা। বন্ধুসুলভ আচরণ করা। একজন চিকিৎসককে স্বভাবতই সত্, নিঃস্বার্থ, অঙ্গীকারবদ্ধ, দেশপ্রেমিক, দায়িত্বশীল ও দয়ালু হতে হয়। রোগীকে মানবিক মন নিয়ে সেবা করে তার দুঃখ-বেদনা অনুভব করতে পারেন। এমনই একজন সদালাপী, মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তার আন্তরিকতা আর আলাপনেই রোগী অনেকটা নির্ভরতা খুঁজে পান। সুস্থ হয়ে ওঠার মনোবল ফিরে পান। তিনি রোগীকে আপন করে নিতে পারেন। শুধু রোগী নয়, মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক অমোঘ শক্তি রয়েছে তার, যা সবাইকে মুগ্ধ করে।

ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান একজন সক্রিয় চিন্তার মানুষ, মার্কিন চিন্তাবিদ-লেখক, প্রকৃতিপ্রেমী র্যালফ ওয়াল্ডো এমার্সনের ভাষায় (Man thinking)। এই সক্রিয় চিন্তার মানুষ তার আবেগকে রাখেন বুদ্ধির শাসনে, ইতিহাস ও সময়কে দেখেন বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে, সংকটে-সন্তাপে থাকেন স্থিরচিত্ত। এই মানুষের কাছে মানবিকতা আর সামাজিক অংশগ্রহণ গুরুত্ব পায়। সক্রিয় চিন্তার মানুষ অতীতকে আবিষ্কার করেন বইয়ের মধ্য দিয়ে, গবেষণার মধ্য দিয়ে; প্রকৃতিকে কল্পনা করেন মানসগঠনের পেছনে বড় একটি প্রভাব হিসেবে এবং সংস্কৃতির শক্তিতে পেতে চান তার সব শুদ্ধতা নিয়ে। এসবই আমরা তার ভেতর দেখতে পাই।

ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ১৯৬৯ সালের ১৫ মে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মা হাসিনা রহমান। শৈশব থেকেই তিনি প্রখর মেধাবী ও মানবপ্রেমী। মানবসেবা করার উদ্দেশ্যেই চিকিত্সাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট থেকে বক্ষব্যাধিতে এমডি ডিগ্রি অর্জন করে পেশাগত জীবনে দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বক্ষব্যাধির ওপর এমডি এবং ২০১৪ সালে আমেরিকান কলেজ অব চেস্ট ফিজিশিয়ানস থেকে এফসিসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি বিএসএমএমইউ জার্নালের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মেম্বার সেক্রেটারি, ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ডের (আইআরবি) সদস্য এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব স্পোর্টস মেডিসিনের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি ছাত্রলীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পালমোনারি হাইপারটেনশন সোসাইটি ও পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই মেয়াদ পালন করেছেন কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ কমিটির সভাপতি এবং সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে ও চিকিত্সকদের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদাই সোচ্চার। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মানবিক গুণাবলি থেকে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু ফ্রি চিকিত্সা দিয়েই নয়, সমাজের অসচ্ছল মানুষের জন্য তিনি নানা সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, বাড়াচ্ছেন।

ডা. আতিকুর রহমান কখনো সংকীর্ণমনাকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘আমরা সবাই মানুষ, মানুষ হয়ে মানুষের ধর্ম মানবতা আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাওয়া উচিত। যেখানে হিংসা, বিদ্বেষ ও হিংস্রতা থাকবে না। থাকবে না পরচর্চা, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা। থাকবে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন জার্নালে ৪৭টি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পেশাগত গবেষণার বাইরেও তিনি নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কলাম লিখছেন। তার সম্পাদিত বই ‘অনন্য শেখ হাসিনা’, ‘তোমার নামের রক্তলেখা’, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রযুক্তি ও স্বদেশ ভাবনা’। এ ছাড়া গবেষণামূলক বই লিখেছেন ‘স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা’। তিনি একজন নিবিষ্ট পাঠকও। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় করে পড়েন ও লেখেন। এ অভ্যাস তার ছাত্রজীবন থেকেই। মায়ের প্রতি তার রয়েছে অনিঃশ্বেস ভালোবাসা। মা-ই তার সততা ও আদর্শের বাতিঘর।

মার্জিত এই মানুষটি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংসারের দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সহধর্মিণী কাজী রাহিলা ফেরদৌসি এবং দুই কন্যা আদিবা আজিজ রহমান ও আরিবা আজিজ রহমানকে নিয়ে সংসারের ছোট্ট ভুবনেও দায়িত্বশীল তিনি। মূল্যবোধ শিখিয়েছেন সন্তানদের। মানবিক মানুষ হয়ে মানবসেবা করার লক্ষ্যেই তাদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। জন্মদিনে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

লেখক :সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

ইত্তেফাক/এমএএম