পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ১৮:৩৫

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা মানের বিশ্ববিদ্যালয় শাখাগুলোর কমিটির মেয়াদ ১ বছর। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন এই কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। কিন্তু পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ ১ বছর পূর্ণ করে ৭ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। 

এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ার পেছনে নেতা-কর্মীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার ধরে রাখাকে দায়ী করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাব বাবুকে সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের (০১) জন্য ১৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। 

বর্তমানে এই কমিটির মেয়াদ ১ বছর শেষ হয়ে আরো ৭ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এর পাশাপাশি হল এবং অনুষদভিত্তিক কমিটিগুলো এখন পর্যন্ত করা হয়নি। যদিও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেতা কর্মীদের থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ৮ মাস পার হয়ে গেলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন না হলে কমিটি বিলুপ্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ধারা ৯ উপজেলা শাখা ও ধারা ১০ জেলা শাখা থেকে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জেলা শাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো উপজেলা শাখার সমমর্যাদা পাবে। ধারা ১০ অনুযায়ী জেলা শাখার মেয়াদকাল হবে এক বছর। জেলা শাখাকে এক বছরের মধ্যে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের অনুমোদনক্রমে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।

ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরাদের অভিযোগ, সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের প্যানেলে যারা এখন রাজনীতি করছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়ে যাওয়ার পর তারা সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের প্যানেল থেকে বের হয়ে আসবেন। এতে করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্যানেল ছোট হয়ে আসবে ফলে ক্যাম্পাসে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে। এই অবস্থায় যতদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে থাকা যায় ততদিনই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য মঙ্গলজনক। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদপ্রত্যাশী বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পরপরই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অনেকগুলো গ্রুপ তৈরি হবে। ফলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপ ছোট হয়ে যাবে যেটা তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবেনা। এই কারণে যতদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবেনা ততদিন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।’

সাবেক এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটির দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাথে ছিল এমন অনেকের পড়াশোনা শেষের দিকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি না দিলে তাদেরকে শূন্য হাতে ফিরতে হবে, তখন দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে’।

তবে নিজেদের স্বার্থ ও দ্বন্দ্বের অভিযোগটি নাকচ করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা বলছেন, সংগঠনের স্বার্থ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পাওয়ার কারণেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে বিলম্ব হয়েছে। এখন কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে, তাই দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল্লাহ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। উনারা আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি তৈরি করার কথা বলেছে, আমরাও কমিটি তৈরি করছি। এই সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের ভেতরে আমরা হয়তো কমিটি জমা দিতে পারবো।’

সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহের ভেতরে কমিটি জমা দিবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘আমরা ঐ শাখাকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য বলেছি। পাশাপাশি শাখার অন্তর্গত যে হল ও অনুষদ আছে সেগুলোর কমিটি যেন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে তদারক করে দেওয়া হয় সেটাও বলেছি। এসবের মধ্যে যেন সাংগঠনিক পরিবেশ বজায় রেখে কাজ করা হয় সে নির্দেশনা আমরা কেন্দ্র থেকে দিয়েছি।’

ইত্তেফাক/এআই