মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

চমেকে তিন বছরেও চালু হয়নি অচল ক্যাথল্যাব

এনজিওগ্রাম করাতে দীর্ঘ অপেক্ষা রোগীদের

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৬:০০

চমেক হাসপাতালে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে অপারেশনসহ জটিল হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে। প্রতি মাসে জটিল হৃদরোগীর শরীরে ৭০ থেকে ৮০টি রিং বসানো হচ্ছে। বসানো হচ্ছে পেসমেকার। এতে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে কম খরচে জটিল হৃদরোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন। তবে ক্যাথল্যাবসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল থাকলে আরও বেশি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যেত বলে চিকিৎসকরা জানান। দুটি ক্যাথল্যাবের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন যাবত অচল। এতে এনজিওগ্রাম করতে সিরিয়াল নিয়ে হৃদরোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগীরা শরীরে রিং বা পেসমেকার স্থাপন করতে হবে কি না বা হৃদরোগ কোন পর্যায়ে আছে তা নির্ণয় করার জন্য রোগীর এনজিওগ্রাম করতে হয়। হার্টে ব্লকের অবস্থান নির্ণয়ের পর চিকিৎসক রিং বসানোর জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু চমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে দুটি ক্যাথল্যাব মেশিনের মধ্যে একটি মেশিন ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ক্যাথল্যাব মেশিনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেরামতের জন্য চেষ্টা করে এলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কঠিন শর্তের কারণে মেরামত প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। বর্তমানে একটি মাত্র ক্যাথল্যাব মেশিন চালু রয়েছে। এতে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় মেশিনের ওপর চাপ পড়ছে। এনজিওগ্রাম করতে রোগীকে দীর্ঘ সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একমাত্র ক্যাথল্যাব মেশিনটি কোনো কারণে অচল হয়ে পড়লে রিং ও পেসমেকার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে চিকিৎসকরা জানান।

চিকিত্সকরা জানান, চমেক হাসপাতালে একজন রোগীকে রিং স্থাপন বাবদ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লাগছে। যা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রায় অর্ধেক। আর পেসমেকার স্থাপনে খরচ বেশি। এতে রোগীর দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। রিং বা পেসমেকার স্থাপন ছাড়াও হৃদরোগীদের অন্যান্য জটিল চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হার্টে জন্মগত ত্রুটির চিকিৎসা হচ্ছে না। এটা করার জন্য দক্ষ চিকিৎসক হাসপাতালে নেই। তবে এ ধরনের কয়েক জন রোগী থাকলে ঢাকা থেকে ডা. ফাতেমা বেগমের নেতৃত্বে টিম এসে জন্মগত ত্রুটিতে আক্রান্ত হৃদরোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশীষ দে ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে রোগীরা রিং ক্রয় করছেন। তবে আমাদের চিকিত্সকসহ জনবলের সংকট রয়েছে। আরেকটি ক্যাথল্যাব মেশিনের প্রয়োজনীয়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

প্রসঙ্গত, চমেক হাসপাতালে ১৯৮৯ সালে কার্ডিওলজি বিভাগ চালু হয়। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ১২ নম্বর ওয়ার্ডে অনুমোদিত ১০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২০০ এর বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। ওয়ার্ডে ১৫টি সিসিইউ বেড চালু রয়েছে। কার্ডিওলজি বিভাগে চিকিৎসকের অনুমোদিত মাত্র চারটি পদ রয়েছে। বর্তমানে আরও আট জন চিকিৎসক সংযুক্তিতে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে চিকিত্সাসেবা দিচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এমএএম