শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জাজিরায় পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ০৭:০০

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকল্পের কাজ শুরু করে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় আনন্দে ভাসছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

প্রকল্পের আওতায় জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদীভাঙন রোধকল্পে তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও ওয়াকওয়ে করা হবে। এর ফলে জাজিরার মানুষ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাজিরা উপজেলার বিদ্যালয়, হাটবাজার, রাস্তা, ব্রিজ, ফসলি ও বাসযোগ্য জমি, বসবাসের বাড়িঘর, ধর্মীয় উপাসনালয়, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মানুষের আর্থসামাজিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। পর্যটন এলাকায় পরিণত হবে ভাঙনকবলিত পদ্মা পাড়ের জনপদ।

জানা গেছে, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর জিরো পয়েন্ট পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকা থেকে বিলাসপুর ইউনিয়নের সীমানা পর্যন্ত পদ্মা নদীর ব্যাপক ভাঙনকবলিত এলাকা। গত কয়েক বছরে ভাঙনে এই এলাকার শত শত মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। শত শত হেক্টর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, গাছপালা, রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল পদ্মা পাড়ের মানুষ।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বরে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকা রক্ষা প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। ৩২টি প্যাকেজে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। ইতিমধ্যে ২৯টি প্যাকেজের টেন্ডার হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২২টি প্যাকেজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে একযোগে ২২টি প্যাকেজের কাজ আংশিক শুরু হয়েছে। ১০টি বার্জে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।

এদিকে তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় আনন্দে ভাসছেন পদ্মা পাড়ের ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। এ এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে পালেরচর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তার মধ্যে একটি গ্রাম কাথুরিয়া। সম্প্রতি পালেরচর বাজার ও কাথুরিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত শ্রমিক পদ্মার পাড়ে তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ করছেন। তারা বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করছেন এবং ১০টি বার্জের মাধ্যমে বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ডাম্পিং করছেন।

কাথুরিয়া এলাকার পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব ইমান তালুকদার বলেন, পদ্মা আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। আমরা ভিটেমাটি সহায় সম্পদ অনেক কিছু হারিয়েছি। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বাঁধ নির্মাণ করা। এখন বাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকা রক্ষা প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে আমরা শুরু করে দিয়েছি। ঈদের পরে উদ্বোধন অনুষ্ঠান করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা বাঁধের আওতায় চলে আসবে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিনের পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি এ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থাসহ ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য আমাদের আপন প্রচেষ্টা থাকবে।

ইত্তেফাক/এনএন